ট্রাম্প গত সপ্তাহে ডালাসে রিপাবলিকানদের প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনভিত্তিক সম্মেলনে এ প্রস্তাব দেন। পরে তিনি বলেন, ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদান অবশ্যই হবে এবং এটিকে তিনি জো বাইডেনের আমলের নীতির প্রভাব সহ্য করা নাগরিকদের জন্য এক ধরনের ‘পুরস্কার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন এটিকে ‘সৃজনশীল ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করলেও বলেছেন, অর্থপ্রদানের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন লাগতে পারে।
নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাটদের কঠোর সমালোচনা
নিউ জার্সির সিনেটর অ্যান্ডি কিম বলেন, এর আগে ‘DOGE dividend’ ও ট্যারিফ রিফান্ডের কথা বলা হয়েছিল; এখন ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, এটি ভোটারদের প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে স্বাস্থ্যসেবা ও গ্যাসের দাম বেড়েছে।
সিনেটর কোরি বুকার আরও কঠোর ভাষায় বলেন, প্রস্তাবিত ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থপ্রদান জাতীয় ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি এটিকে বাস্তব অর্থনৈতিক সহায়তার পরিবর্তে একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে সমালোচনা করেন।
খরচ কত হতে পারে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার করে দিলে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ইতোমধ্যে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ায় অর্থনীতিবিদ ও কিছু আইনপ্রণেতা নতুন ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, এই অর্থ করদাতাদের ওপর নতুন কর চাপিয়ে নয়, বরং সরকারের আয় ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে। তবে এখনো পুরো অর্থের জন্য কোনো চূড়ান্ত অর্থায়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে
প্রস্তাবটি নিয়ে শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ বিতরণ জাতীয় ঋণ ও মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের কিছু সমর্থক এই পরিকল্পনাকে সাধারণ আমেরিকানদের হাতে আরও অর্থ পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাব্য উপায় হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, ৫ হাজার ডলারের ‘Trump Dividend’ এখনো বাস্তবায়িত কোনো সরকারি কর্মসূচি নয়; এটি একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব, যার অর্থায়ন, কংগ্রেসের অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।