নিবন্ধে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে মস্কোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি বা আনুষ্ঠানিক সমর্থন এখনও দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে চাপের মুখে রয়েছে। শীত মৌসুম সামনে থাকায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
নিবন্ধটির লেখক জন হার্ডি ও মার্ক মন্টগোমারি মনে করেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার সামরিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা শনাক্ত ও মোকাবিলায় আরও কার্যকর প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হলে রাশিয়ার ওপর আলোচনায় বসার চাপ বাড়তে পারে।
এক্ষেত্রে তারা স্পেসএক্সের Starlink স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থার সম্ভাব্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই সামরিক যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনায় Starlink ব্যবহার করে আসছে। তবে রাশিয়ার ভূখণ্ডে সামরিক কার্যক্রমে Starlink ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পেসএক্সের বিধিনিষেধ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের দাবি, Starlink ব্যবহার করে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা নয়, বরং ইউক্রেনের বেসামরিক জনগণের ওপর হামলায় ব্যবহৃত সামরিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হলে তা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়াকে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের বিষয়ে আলোচনায় উৎসাহিত করা সম্ভব হতে পারে—এমনটাই তাদের মত।
তবে ইলন মাস্কের দৃষ্টিতে রাশিয়ার ভূখণ্ডে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার যুদ্ধকে আরও বড় সংঘাতে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইলন মাস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই ট্রাম্প সরাসরি মাস্কের সঙ্গে আলোচনা করে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সম্ভাব্য জ্বালানি যুদ্ধবিরতির মধ্যে একটি সমন্বিত সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে পারেন।
নিবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো—সামরিক চাপ কমানো, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা এবং কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে প্রযুক্তিকে যদি সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়, তাহলে ইলন মাস্ক ও Starlink রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে।