ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ - ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের সেই এয়ারম্যানের অবিশ্বাস্য বেঁচে থাকার কাহিনি

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, September 16, 2026 - 3:31 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 13 বার
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)ইরানের মাটিতে মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর প্রায় দুই দিন শত্রু এলাকায় আত্মগোপন করে বেঁচে থাকার অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানিয়েছেন এক মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্নেল। রোববার সিবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘60 Minutes’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। নিরাপত্তার কারণে তাকে শুধু মিশন কলসাইন ‘Dude 44 Bravo’ নামে পরিচয় করানো হয়েছে।

আকাশ থেকে মাটিতে ভয়াবহ পতন

এপ্রিল মাসে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের Kohgiluyeh and Boyer-Ahmad প্রদেশের কাছে মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলকে ইরানের একটি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে। বিমানটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমানে থাকা পাইলট ‘Alpha’ এবং অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ‘Bravo’ দ্রুত ইজেক্ট করেন। কিন্তু Bravo-এর প্যারাসুট প্রাথমিক আঘাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নিচে নামার সময় তিনি ওপরে তাকিয়ে দেখতে পান—প্যারাসুট ঠিকমতো খুলছে না।

তিনি জানান, তখন তিনি ঘণ্টায় আনুমানিক ৭০ থেকে ১০০ মাইল গতিতে মাটির দিকে পড়ছিলেন। তার ভাষায়, জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্ত ছিল যখন তিনি মাথার ওপর কোনো প্যারাসুট দেখতে পাচ্ছিলেন না।

গুরুতর আহত হয়েও শত্রুর হাত এড়িয়ে যান

পতনের পর Bravo গুরুতর আহত হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার পিঠ, হাত ও কাঁধে আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে যায়। এরপরও তিনি ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য অনুসন্ধান এড়িয়ে পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেন।

তিনি প্রায় ৫০ ঘণ্টা শত্রু এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। তার কাছে ছিল সীমিত সরঞ্জাম, একটি পিস্তল, যোগাযোগের যন্ত্র এবং জরুরি সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা। অন্যদিকে মার্কিন বাহিনী তাকে উদ্ধারের জন্য ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে।

শুরু হয় দুর্ধর্ষ উদ্ধার অভিযান

মার্কিন বিশেষ বাহিনী ও গোয়েন্দা সদস্যরা Bravo-এর অবস্থান শনাক্ত করতে অভিযান চালায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানে ডেল্টা ফোর্স ও নেভি সিলের সদস্যসহ বিপুলসংখ্যক সামরিক ও গোয়েন্দা personnel যুক্ত ছিলেন।

উদ্ধারকাজে ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য গোয়েন্দা কৌশলও ব্যবহার করা হয়। অবশেষে মার্কিন উদ্ধারকারী দল পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকা Bravo-এর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

উদ্ধারকারীদের দেখতে পাওয়ার মুহূর্তটিকে তিনি জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তখন তার মনে হয়েছিল—শুধু “Thank you” বলেই সেই অনুভূতি প্রকাশ করা সম্ভব।

পাইলটকে কৃতজ্ঞতা

সাক্ষাৎকারে Bravo তার সহযোদ্ধা ও পাইলট ‘Alpha’-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, Alpha দ্রুত ইজেকশন প্রক্রিয়া শুরু না করলে তাদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো না।

Bravo জানান, শত্রু এলাকায় পৌঁছানোর পর তার প্রথম বার্তাগুলোর একটি ছিল—“God is good.”

এই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসে দেওয়া তার বক্তব্য মার্কিন সামরিক সদস্যদের জন্য শত্রু এলাকায় বেঁচে থাকা, আত্মগোপন এবং উদ্ধার অভিযানের ভয়াবহ বাস্তবতার একটি বিরল চিত্র তুলে ধরেছে।

Inline image