পটুয়াখালীতে কাজ না করেই ৯১ লাখ টাকার বিল: এলজিইডির ২ প্রকৌশলীকে শোকজ
মু,হেলাল আহম্মেদ(রিপন)পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:পটুয়াখালী সদর উপজেলায় বাস্তবে কাজ না করেই ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার সুপারিশ এবং সম্পন্ন কাজের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ বিল হিসেবে পাস করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার এবং সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে এলজিইডি।
গত ২২ সেপ্টেম্বর এলজিইডি পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়ালিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে এ কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পত্র পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দেওয়ার পাশাপাশি কাজ সম্পন্ন না হওয়া প্রায় ৯১ লাখ টাকা বিল ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
যেসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
এলজিইডির নোটিশ ও প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুটি প্যাকেজে এই অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে:
১. প্যাকেজ W-৩৫/২০২৩-২৪:
প্রকল্পের কাজ: মরিচবুনিয়া চাটুয়া স্লুইস-পূর্ব মরিচবুনিয়া হয়ে উত্তর বিরাজলা কমিউনিটি স্কুল সড়কের ৫ কিলোমিটার পুনর্বাসন কাজ।
বিলের গরমিল: এই প্যাকেজে প্রথম ও দ্বিতীয় চলতি বিল বাবদ মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫২৭ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত দেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়িত না হওয়া কাজের বিপরীতে প্রায় ৪৭ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে বিল’ দেওয়া হয়েছে।
২. প্যাকেজ W-৩৬/২০২৩-২৪:
প্রকল্পের কাজ: লোহালিয়া ইউপিসি-ভূরিয়া বাজার-দারান্দি লঞ্চঘাট হয়ে মিয়ারহাট সড়কের ৫.৫ কিলোমিটার এবং জৈনকাঠি ইউপিসি থেকে ভূরিয়া বাজার হয়ে এম. ধরান্দি কলেজ সড়কের ৭.৪৫ কিলোমিটার পুনর্বাসন কাজ।
বিলের গরমিল: প্রথম চলতি বিল বাবদ ৯৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৪ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল পাস করা হয় এবং প্রায় ৪৪ লাখ টাকার অনিষ্পন্ন কাজের জন্য ‘Unspecified’ খাতে ভুতুড়ে বিল প্রদান করা হয়।
অসাধু উপায়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগ
নোটিশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কাজের বিল, পরিমাপ বই (এমবি) এবং বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনায় কাজের একটি বড় অংশের অসংগতি ধরা পড়ে।
উপসহকারী প্রকৌশলী (সাবেক) মো. আতিকুর রহমান: তিনি দায়িত্ব পালনকালে এ দুই প্যাকেজের তদারকি ও বিল প্রক্রিয়াকরণে জড়িত ছিলেন। (বর্তমানে তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত)আছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার: তিনি সরাসরি কাজের বিল পাসের সুপারিশ করেছিলেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আর্থিকভাবে নিজে ও ঠিকাদারকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে যোগসাজশ করে ইচ্ছাকৃতভাবে এই অতিরিক্ত ও ভুতুড়ে বিল পাস করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। কর্তব্যে অবহেলার কারণে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও অনুলিপি প্রেরণ
এদিকে নোটিশের অনুলিপি ইতিমধ্যে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) এবং পটুয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পরে লিখিত বক্তব্য দেবেন।
অন্যদিকে, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।








