ঢাকা | অক্টোবর ১৩, ২০২৬ - ৭:৩১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

লোহাগড়ার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, October 13, 2026 - 12:47 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 7 বার

নড়াইল প্রতিনিধি:নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ দিনের এক নবজাতক কন্যাশিশুকে চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক কিশোর কুমার সাহা ওরফে কে কে সাহার বিরুদ্ধে। শুধু নবজাতক নয়, ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা না দেওয়া এবং বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগী পাঠানোর বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করেছেন একাধিক ব্যক্তি। এসব অভিযোগের মধ্যে নবজাতককে চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার ঘটনায় বিচার চেয়ে নড়াইলের সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক বাবা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. টিপু শেখ গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার ১২ দিনের নবজাতক কন্যাশিশুকে চিকিৎসার জন্য লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক কে কে সাহার কাছে চিকিৎসাসেবা চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসা দিতে পারবেন না বলে জানান। এ সময় তিনি বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং শিশুটিকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ওই সময় চিকিৎসক ধূমপান করছিলেন।

পরে নিরুপায় হয়ে নবজাতককে নিয়ে নড়াইল সদর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন টিপু শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর নড়াইলের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

টিপু শেখ লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি গ্রামের মো. সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি গণ অধিকার পরিষদের নড়াইল জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

চিকিৎসক কে কে সাহার বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তি। তাদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার পাচুড়িয়া গ্রামের মফিজুর, একই গ্রামের চান মিয়া শরীফ, সাকিবসহ আরও কয়েকজন। তারা বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকের আচরণ ও সেবা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, চিকিৎসা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে অনেক সময় রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। এমনকি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা না দিয়ে অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে রোগীদের সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সেবা না পেলে তাদের ভোগান্তি বাড়ে। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা প্রাথমিক চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

চিকিৎসক কিশোর কুমার সাহা ওরফে কে কে সাহার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকেরা। এ সময় তিনি অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন।

নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, নবজাতককে চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগসহ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#