ঢাকা | অক্টোবর ১৫, ২০২৬ - ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ঘুষ দুর্নীতির বরপুত্র ময়মনসিংহ সদর মহাফেজ খানার রেকর্ড কিপার মিজানুর রহমান

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, October 14, 2026 - 4:17 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 13 বার

বিশেষ প্রতিবেদকঃঃ ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মহাফেজ খানার রেকর্ড কিপার মিজানুর রহমান একজন মহা ক্ষমতাধর ও ঘুষখোর হিসেবে সর্বত্র আলোচিত ও সমালোচিত।

দীর্ঘ দিন থেকে ময়মনসিংহ সদর মহাফেজ খানার রেকর্ড কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অভিযুক্ত রেকর্ড কিপার মিজানুর রহমান। গুনধর এই কর্মচারীর কারণে ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মহাফেজখানায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালের উপদ্রব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও সুত্র জানিয়েছে।

সরকারি কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দালাল চক্ররা তাদের অপকর্ম প্রকাশ্যে চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শকের ভূমিকায়। ফলে মাস্টার রোল কর্মচারী ও দালালদের নিয়ন্ত্রনেই চলে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, রেকর্ড কিপার মিজানুর রহমান রেকর্ড রুমের ভলিয়ম পাল্টাতে খুই পারদর্শী।

মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভলিয়ম খোলে ও পাতা সরিয়ে এই সিরিয়ালে ভূমিখেকো ও ভূমিদস্যু শ্রেণির মানুষের সৃষ্ট বেকডেইটের জাল দলিল ভলিয়মে প্রবেশ করে দিতে পারেন। ফলে ভূমিহারা হতে হয় প্রকৃত ক্রেতা ও দলিল গ্রহীতাদের। এছাড়া ঘষামাঝা ও টেম্পারিংয়েও তিনি খুবই সিদ্ধহস্ত। ভলিয়মে লিপিবদ্ধ দলিলের দাগ খতিয়ান ও মৌজা বদলে দিতে পারেন অতিসহজে। তিনি দীর্ঘ দিন থেকে এই অফিসে কর্মরত ও প্রভাবশালি কর্তাব্যক্তি হওয়ায় অধীনস্তরা তার বিরুদ্ধে মূখ খোলতে সাহস পান না। কেউ প্রতিবাদ করলে বা জালিয়াতির কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর নেমে আসে শাস্তির খড়গড়। ভূমির শ্রেণী বদলিয়ে কম টাকায় (ফি) জমির দলিল রেজিস্ট্রি করিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, দলিলের সার্টিফাই নকল তুলতে হলে রেকর্ড কিপার মিজানুর রহমান ও তার নিয়োগ প্রাপ্ত দালাল চক্রের চাহিদা মাফিক টাকা দিতে হয়। তা না হলে দলিল পাওয়া যায় না। প্রতি দলিলের জন্য ৫ হাজার করে দিতে হয় এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

কর্তৃপক্ষ বা বড়কর্তাকে ম্যানেজ করে আজীবন চাইলে বহাল থাকতে পরবেন একই অফিসের কর্মক্ষত্রে। এখানে চাকরিবিধি’র কোনো বালাই নেই। তাইতো কোনো কর্মকর্তা কর্মচারী বছরকে বছর আনলিমিটেড চাকরি করছেন ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের অধিনে বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। বেপরোয়া হয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অনিয়ম দুর্নীতি, টেম্পারিং জালিয়াতি ও ঘুষবাণিজ্য। জালিয়াতির মাধ্যমে অনায়াসে দিয়ে দিচ্ছেন ‘এক গাভির বাছুর অন্য গাভির নিচে’। হয়রানী ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনিয়মের মাধ্যমে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও বিত্তবৈভবের মালিক হয়ে যাচ্ছেন জেলা রেজিস্ট্রারের অধীন জেলার কয়েকটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারি।

সুত্র জানিয়েছে-জেলা রেজিস্ট্রার অন্য সবাইকে বদলি করলেও অজানা কারণে রেকর্ড কিপার মিজানুর রহমানকে বদলি বা স্থানান্তর করতে চান না এ অফিস থেকে। আর এ কারণেই অনিয়ম-জালিয়াতির কারখানায় পরিনত হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস এর রেকর্ড রুম। ফলে জনগনের ভূ-সম্পত্তির ডকুমেন্ট নিরাপদ নয় ময়মনসিংহ সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে এমন আশংঙ্কা অনেকের। তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগের কোনো অন্তঃনেই।

অভিযোগ উঠেছে-ময়মনসিংহ সদর রেজিস্ট্রি মহাফেজখানায় সরকারি রেকর্ড ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলের তল্লাশি সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নির্ধারিত নকল ফি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পুরোনো নথি তল্লাশিতে দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগা, গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড একজন কর্মচারীর নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অফিস সময়ের পরও দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একটি সুত্র জানিয়েছে রেকর্ড কিপার মিজানুর রহমান অত্যন্ত দায়িত্ববান কর্মচারী, তিনি ছুটির পরেও মেইন গেইট বন্ধ করে রাত ৮টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে টেম্পারিং জালিয়াতি ও ঘুষবাণিজ্যের টাকা গুলো হালাল করতে জালিয়াতির মাধ্যমে অনায়াসে এক গাভির বাছুর অন্য গাভির নিচে
দিয়ে দেওয়ার কাজগুলো তিনি করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দুই-তিন বছরের পুরোনো কোনো নথির তল্লাশি চাইলে অনেক সময় প্রায় দুই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পর্যাপ্ত তল্লাশি কারক বই না থাকা এবং পুরোনো রেকর্ড খুঁজে বের করার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যথাযথভাবে ব্যবহার না করাকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

রাত ৮টা পর্যন্ত গেট বন্ধ কাজ করা নিয়েও জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি অফিসে নির্ধারিত সময়ের পর এত দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণ কী? এ সময় কী ধরনের কার্যক্রম চলে? কেন অফিসের কেচি গেট বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করা হয়? এনিয়েও রয়েছে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সমালোচনা।

অভিযোগ রয়েছে- সীমাহীন দুর্ণীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে মিজানুর রহমান অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। জমি-জমা ও ফ্ল্যাটের মালিকানা বা সম্পদ অর্জন নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁর চাকরি জীবনের আয়, দৃশ্যমান সম্পদ এবং সম্পদ অর্জনের সময়কাল ও উৎসের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা যাচাইয়ের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। নির্ভরশীল সুত্রে জানা যায়, সম্পদ বিবরণী, ভূমি রেকর্ড, দলিলপত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন। এর আগেও মিজানুর রহমান গফরগাঁওয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। গফরগাঁওয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। পূর্ববর্তী কর্মস্থলের নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা।

এদিকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ ও তল্লাশির মতো স্পর্শকাতর দায়িত্বে থাকা একজন কর্মচারী দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার তার ব্যাপারে প্রশাসনিক নজরদারি কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গের মাঝে।

এ ব্যাপারে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মহাফেজ খানার