ঢাকা | অক্টোবর ২২, ২০২৬ - ৮:০৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পটুয়াখালীতে জাহাঙ্গীর গাজীর বিরুদ্ধে ভূক্তোভূগীর সংবাদ সম্মেলন

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, October 22, 2026 - 12:38 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 13 বার

মু,হেলাল আহন্মেদ(রিপন)পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:পটুয়াখালীতে বিয়ের প্রলোভন, ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের মাধ্যমে এক নারীকে নিঃস্ব ও জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী পৌরসভার শ্যামলী সড়ক এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে। ধর্ষণের ঘটনার গোপন ভিডিও ধারণ করে সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি ও লাগাতার শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে পটুয়াখালীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী শিলা আক্তার।

অদ্য ২২ অক্টোবর পটুয়াখালী পৌর শহরের মল্লিকা রেস্তোরাঁর ২য় তলায় বেলা ১২ টার সময়  রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্লাবে এ  সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, সুবিচারের আশায় আদালতে মামলা দায়ের করলেও আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

​মোবাইল আলাপে পরিচয়, তারপর জোরপূর্বক নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিলা আক্তার জানান, পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম কালিকাপুরের সয়েজউদ্দিন গাজীর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গাজী বিভিন্ন কৌশলে তাঁর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এবং পরিচয়ের সূত্রে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরবর্তীতে সে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে শিলা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

​একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর সুযোগ বুঝে শিলা আক্তার যে ভাড়া বাসায় থাকতেন, সেখানে অনাধিকার প্রবেশ করে শিলার ওপর জোরপূর্বক নির্যাতন চালায়। এ সময় শিলা ডাকচিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর মুখ চেপে ধরে পরনের পোশাক খুলে নেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর তাঁর মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ধারণ করে।

​ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ ও গহনা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের ​ঘটনার পর ওই অশ্লীল ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে ফেলা হয়। শিলা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “ভিডিও ফাঁসের ভয়ে আমি মুখ খুলতে পারিনি। এই ব্ল্যাকমেইলের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, কাজের কথা বলে এবং বিয়ের নাটক সাজিয়ে আমার কাছ থেকে দফায় দফায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়ে আমাকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করে ফেলেছে।”

​ভুক্তভোগী আরও জানান, একপর্যায়ে কোর্টে নিয়ে বিয়ের একটি ভুয়া নাটক সাজানো হলে তিনি কাজী ডেকে শরীয়ত মোতাবেক কাবিন রেজিস্ট্রি করার দাবি জানান। কিন্তু অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর তাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাঁকে রক্ষিতা হিসেবে থাকার প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে জানা যায়, শিলা আক্তার ছাড়াও এলাকার আরও একাধিক নারী ওই ব্যক্তির একই ধরনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন।

 

​প্রতারণা ও নির্যাতনের কোনো উপায় না পেয়ে শিলা আক্তার আইনের আশ্রয় নেন এবং পটুয়াখালীর বিজ্ঞ আদালতে জাহাঙ্গীর হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

​তবে মামলা করার পরও আসামির কোনো সাজা বা আইনানুগ গ্রেফতার না হওয়ায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তাঁকে ‘গায়েব করে ফেলা’সহ নানা ধরনের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আসামির ক্রমাগত হুমকিতে তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

​ন্যায়বিচারের সার্থে ভুক্তোভুগী সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ভুক্তভোগী শিলা আক্তার উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গাজীকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যেন আর কোনো নারী এভাবে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার না হয়।

 

এব্যপারে অভিযুক্তকারী জাহাঙ্গীর গাজীর মুঠোফোন নাম্বারে ফোন করে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি হানিট্রাপের শিকার ঐ মেয়ের এর আগেও ৩ টা বিয়ে হয়েছে

তার একটিরও তালাক হয়নি। আমি ডকুমেন্টস হাতে নিয়েছি বন্ধের পর আমি ও প্রমান সহকারে সংবাদ সম্মেলন করবো। ওর ১২ টা বাজিয়ে ছাড়বে বলে জানান তিনি।