ঢাকা | মার্চ ১৯, ২০২৬ - ৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

সুলভ মূল্যের হাটে ভেঙে গেছে বাজার সিন্ডিকেট, প্রশংসায় ভাসছেন ভালুকার ইউএনও

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, March 17, 2025 - 1:03 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 87 বার

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ:ময়মনসিংহের ভালুকায় রমজানে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সূলভ মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও কৃষিজাত পণ্যের সাথে মিলছে গরু, ছাগলের মাংস বিক্রির কার্যক্রম।

দেশের সবখানে মুল্যবৃদ্ধির খবরের মধ্যেই রমজানে ভালুকায় ৭৫০ টাকার গরুর মাংস ভর্তুকি মূল্যে ৬০০ টাকায়, ৬০ টাকা মূল্যের শসা ২৫ টাকায়, ৪৫ টাকার ডিম ৩০ টাকায়, ৬০ টাকার লেবু ৪০ টাকায়, প্রতি লিটার দুধ ১১০ টাকার স্থলে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুলভ মুল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী পাওয়ায় এই বাজারে শত শত মানুষ ভিড় করছেন। সবার ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনায় এনে উপজেলায় এমন সুলভ মূল্যের বাজার চালু করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

গত ৩ মার্চ (সোমবার) রমজানের দ্বিতীয় দিন থেকে
উপজেলা পরিষদ চত্বরে বসানো হয় এই বাজার। বাজার দর হতে কম মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে প্রতিদিন ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বসানো এই বাজারে অন্যান্য বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ সহজেই তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। বাজারে গরু জবাইসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রমকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করেন তিনি।

উপজেলা চত্বরে বাজার করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘ইউএনও স্যারের এমন উদ্যোগে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সুন্দর এই আয়োজনের জন্য ইউএনও স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ’।

সুলম মূল্যের হাঁটে দোকান বসানো বাজারের বিক্রেতারা বলেন, ‘রমজানের শুরুতে বাজারে সবজি থেকে শুরু করে কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণে ছিলো না। অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি করছিলেন ব্যবসায়ীরা। এতে নিম্নমধ্যবিত্তদের হিমশিম খেতে হচ্ছিলো। তাই সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসন ন্যায্য মূল্যে সবজি বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে প্রশাসনের উদ্যোগে সুলভ মূল্যের এই হাঁটের ফলে বাজারের সব ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙতে শুরু করেছে।

সুলভ মূল্যের বাজারের পণ্য কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুল আলীম জানান, বাজারে দ্রব্য মূল্যের যে উর্দ্ধগতি এই সুলভ মূল্যের বাজারটি নিম্ন আয়ের মানুষ সহ সকলের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। বাজার থেকে সুলভ মূল্যে পণ্য কিনতে পেরে ভালো লেগেছে। তবে বাজারে আরও কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করলে আরো ভালো হত। সুলভ মুল্যে এই বাজার বসিয়ে উপজেলার সকল পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গের কাছে প্রশংসার দাবীদার হয়ে উঠেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন,‘বাজার সিন্ডিকেটের কারণে পুরো দেশজুড়েই নিত্য পণ্যের দাম বাড়ে। ভালুকার পরিস্থিতিও এর বাইরে নয়। রমজানের আগেই শোনা যাচ্ছিলো নিত্য পণ্যের দাম বাড়বে। তাই উপজেলা চত্বরে সুলভ মূল্যের হাঁটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্দেশনা অনু্যায়ীই এই সুলভ মূল্যের হাঁট প্রস্তুত করা হয়েছে।

রমজানে সাধারণ মানুষ যাতে সুলভ মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতে পারে সেজন্য প্রান্তিক পর্যায় থেকেও পণ্য ক্রয় করে এখানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা সহজ হয়েছে’। তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের চাহিদা বাড়লে বাজারের পরিধি বাড়ানো হবে। কৃষি পণ্য গুলো সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে মাংস ও ডিম ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়মিত করা সম্ভব নয়। সপ্তাহে দুইদিন চলবে এই বাজার