বনাঞ্চল রক্ষা ও আইনি শৃঙ্খলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের তৎপরতা
কাপ্তাই প্রতিনিধি:-পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন কাপ্তাই ও বরকল রেঞ্জে অবৈধ দখল, বনজ সম্পদ রক্ষা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়ে আসছে। বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিপরীতে বিভাগীয় নথি ও প্রশাসনিক বাস্তবতার চিত্র বিশ্লেষণ করে বনাঞ্চল রক্ষায় কর্মকর্তাদের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ও সাফল্যের তথ্য বন বিভাগ সূত্রে পাওয়া গেছে।
অবৈধ গাছ কাটা রোধ ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহনঃ
উন্মুক্ত বনাঞ্চলে যেকোনো ধরনের বন অপরাধ রুখতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে বন বিভাগ। যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়া মাত্রই তা তাৎক্ষণিকভাবে ‘অফেন্স রেজিস্টারে’ নথিভুক্ত করা হচ্ছে এবং কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অবৈধ কাঠ উদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এই আগাম তৎপরতা বনাঞ্চলে অবৈধ কাঠ সংগ্রহকারীদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমিয়ে এনেছে।
সংরক্ষিত বন রক্ষায় দাপ্তরিক দৃঢ়তাঃ কাপ্তাই সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বন বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বনভূমির ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত রাস্তা নির্মাণ বা বিদ্যুৎ সংযোগের মতো প্রকল্প রোধে জেলা ও উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় লিখিত দাপ্তরিক আপত্তি তুলে ধরা হয়েছে। বন বিভাগের এই দৃঢ় অবস্থানের কারণেই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ প্রকল্প বাস্তবায়ন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
টেকসই সোলার ফেন্সিং ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনাঃ
বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে কাপ্তাইয়ে স্থাপন করা ‘সোলার ফেন্সিং’ প্রকল্পটিকে সার্বক্ষণিক সচল রাখা হয়েছে। তবে বর্ষায় গাছের ডালপালা পড়ে অনেক সময় সোলার ফেন্সিংয়ে সাময়িক সমস্যা হলেও তা দ্রুত সমাধান করে লাইন সচল করা হয়। রেঞ্জ কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের স্টাফদের সমন্বয়ে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব কমিয়ে এনে এলাকাটিকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বৈধ জোতের পারমিট ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাঃ
সরকারি ‘ট্রানজিট রুলস’ কঠোরভাবে অনুসরণ করে কাঠ পরিবহনের অনুমোদন নিশ্চিত করা হচ্ছে। নাগরিকদের নিজ মালিকানাধীন বৈধ জোতের কাঠ নিয়ম মেনে পরিবহনের আইনি সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত ও যাতায়াত রুটগুলোতে নজরদারি অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তাঃ
উপজেলা কার্যালয় ও জেলা সদরে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) কার্যালয়ের মধ্যে নিয়মিত সরকারি বৈঠক এবং সমন্বয় সভার মাধ্যমে দাপ্তরিক গতিশীলতা বজায় রাখা হয়েছে। বরকল ও কাপ্তাই রেঞ্জের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে নিয়মিত কর্মস্থলে থেকে বন বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বিষয় গুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, লোকবলের স্বল্পতা সত্বেও বনবিভাগ অবৈধ দখল, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এতে সফলতাও পাওয়া যাচ্ছে। তবে কিছু কুচক্রি মহল এই অপতৎপরতায় সফল হতে না পেরে বিভিন্ন মনগড়া ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বনবিভাগের এই সফল কার্যক্রম কখনো বাধাগ্রস্থ করতে পারবেনা। বরং এর বিরুদ্ধে নব উদ্যোমে বনবিভাগ কঠোর ও আরও বেশি দাশিত্বশীল ভূমিকায় অবর্তীণ হবে।
এদিকে, বরকল রেঞ্জের কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন বলেন, বনবিভাগের সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মনোবল নষ্ট করার জন্য একটি মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বনবিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বদলির বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী হয়ে থাকে। কেউ ইচ্ছে করলেই বদলি হওয়ার সুযোগ নেই। দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেভাবে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হয় ঠিক একই ভাবে বনবিভাগেও হয়ে থাকে। তাই এবিষয়ে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টির কোন অবকাশ নেই।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের এই নানামুখী উদ্যোগ ও নিয়মমাফিকের কঠোর প্রয়োগ এ অঞ্চলের বনাঞ্চল, সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।








