ভীতিজনক পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন রাজশাহীর নিউ গভ:ডিগ্রী কলেজের শামসুদ্দিন ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থীরা
জিয়াউল কবীর:জরাজীর্ণ ভবন, মাথার ওপর ঝুলতে থাকা ছাদের খসে পড়া প্লাস্টার, আর মৌলিক নাগরিক সুবিধার চরম সংকট সব মিলিয়ে এক ভীতিজনক পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন রাজশাহীর নিউ গভ:ডিগ্রী কলেজের শামসুদ্দিন ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক উদাসীনতা ও সংস্কারের অভাবে ছাত্রাবাসটি এখন নিরাপদ আবাসের বদলে যেন চরম আতঙ্কের নাম। বুধবার রাতে হলের ছাদের প্লাস্টার ধসে পড়ে আবুল কাশেম নামের এক শিক্ষার্থী মারাত্মক আহত হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, হলের ছাদ, দেয়াল, বারান্দা ও সিঁড়ির অবস্থা এতটাই নাজুক যে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ইতিপূর্বে একাধিকবার বিষয়টি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করা হলেও কর্তৃপক্ষ কাজের কাজ কিছুই করেনি। কেবল ভার্চ্যুয়াল আলোচনা বা লোকদেখানো প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এবার সরেজমিনে দৃশ্যমান ও স্থায়ী পদক্ষেপের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ, পানি ও সুপেয় পানির সংকট এবং ব্যবহার অনুপযোগী টয়লেট-বাথরুমের কারণে পুরো হলে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতসব ভোগান্তির পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগের জন্য কোনো ইমার্জেন্সি নম্বর কিংবা প্রশাসনিক তদারকিও নেই।
এই চরম নিরাপত্তাহীনতার অবসান ঘটাতে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ১২ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মূল দাবিগুলো হলো:
১. অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে শামসুদ্দিন ছাত্রাবাস সরেজমিনে পরিদর্শন করতে হবে।
২. বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল এনে ছাদ, দেয়াল, বারান্দা ও সিঁড়িসহ ছাত্রাবাসের সব ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো পরীক্ষা করতে হবে।
৩. পরীক্ষা শেষে জরুরি ভিত্তিতে বিপজ্জনক অংশ সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে।
৪. সংস্কার কাজ চলাকালীন ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে শিক্ষার্থীদের রাখা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।
৫. পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন ও আলো-বাতাসের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
৬. ধসে পড়া প্লাস্টারে আহত শিক্ষার্থী আবুল কাশেমের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় ও সার্বিক দায়িত্ব কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।
৭. হলের সার্বিক নিরাপত্তা যাচাইয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
৮. ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত বিরতিতে ছাত্রাবাস পরিদর্শনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৯. যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি নম্বর ও নিরাপত্তা নির্দেশনা দৃশ্যমান জায়গায় প্রদর্শন করতে হবে।
১০. শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বা সমস্যা দ্রুত জানানোর জন্য একটি দ্রুত ও কার্যকর মাধ্যম চালু করতে হবে।
১১. ঝুলে থাকা পুরানো সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে কাজ শেষ করতে হবে।
১২. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে কলেজ প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষকে যৌথভাবে মাঠে নেমে কাজ করতে হবে।
হলের শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের জানান, আর কোনো সহপাঠীর রক্ত কিংবা প্রাণহানির খবর তারা দেখতে চান না। শুধু আশ্বাস নয়, হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কলেজ অধ্যক্ষ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়ভার নিয়ে সমস্যা দূরীকরনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।








