পঞ্চগড়ে হোটেল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নারীকে মারধরের অভিযোগ
স্নিগ্ধা খন্দকার,পঞ্চগড় প্রতিনিধি:বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের সূত্রে দুইবার গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ের হোটেল ইসলাম আবাসিকের মালিক আব্দুল আল মামুনের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ বিয়ের দাবিতে তাঁর হোটেলে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাহিরা সিদ্দিকা নামের এক নারী। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর পঞ্চগড় সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাহিরা। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন মামুন। পরে তিনি গর্ভবতী হলে ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানো হয়। একইভাবে দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হলেও তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও তাহিরার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পঞ্চগড় শহরের হোটেল ইসলাম আবাসিকের নিচতলার একটি মার্কেটে তাঁর একটি দোকান ছিলো। সেখানে ব্যবসার সূত্রে মার্কেটের মালিক আব্দুল আল মামুনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মামুন তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর তাঁদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন তাহিরা।
তাহিরার দাবি, মামুন তাঁকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার একাধিক আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেছেন। একপর্যায়ে তিনি গর্ভবতী হন। বিয়ের জন্য চাপ দিলে মামুন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরে আবারও তিনি গর্ভবতী হলে দ্বিতীয়বারও সুকৌশলে তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগপত্রে তাহিরা উল্লেখ করেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত সাতটার দিকে বিয়ের দাবিতে তিনি হোটেল ইসলাম আবাসিকে যান। তাঁর উপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে মামুন তাঁর স্ত্রী শাম্মি আক্তার মুন্নি ও তাঁর মা মাজেদা ইসলামকে ফোন করে হোটেলে ডেকে আনেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাহিরার অভিযোগ, হোটেলে এসেই মামুনের স্ত্রী শাম্মি তাঁকে গলা ধাক্কা দিয়ে রুমের মেঝেতে ফেলে দেন। এরপর লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। পরে মামুনের মা তাঁর চুলের মুঠি ধরে দেয়ালের সঙ্গে মাথা ও শরীর ধাক্কা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তিনি আরও বলেন, জ্ঞান ফেরার পর প্রাণ বাঁচাতে হোটেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় আমাকে আবারও কেচিগেটের কাছে টেনেহিঁচড়ে নেওয়া হয়। এতে আমার পিঠে কাটা-ছেঁড়া জখম হয়। চোখ ও মুখেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মারধরের একপর্যায়ে আমার শরীর থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
ঘটনার পর থেকে আমি পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। তাহিরা আরও বলেন, মামুনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ও বিয়ের নিয়ে কথা বললে আমার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
তাহিরা সিদ্দিকা বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে। পরে বিয়ের দাবি জানালে উল্টো আমাকে মারধর করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা ও আইনগত প্রতিকার চান।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আল মামুনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছে, আমিও থানায় অভিযোগ দিয়েছি আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকলেসুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








