ঢাকা | অক্টোবর ১১, ২০২৬ - ৭:৫৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পটুয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, October 11, 2026 - 12:52 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 9 বার

মু,হেলাল আহম্মেদ(রিপন)পটুয়াখালী জেলা  প্রতিনিধি:পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের চরবলাইকাঠী গ্রামে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে সঠিক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

​রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ধরান্দী বাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার, স্থানীয় সচেতন যুব সমাজ ও এলাকাবাসী যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

​মানববন্ধনে স্থানীয় সচেতন যুব সমাজের প্রতিনিধি সোহেল মল্লিক ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “পূর্ব শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সুলতান আকনের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বাদী হয়ে তিন স্কুল শিক্ষার্থীসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।” তিনি জানান, মামলায় গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের ঘটনা উল্লেখ করা হলেও মামলা করা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে। অর্থাৎ ঘটনা ও মামলার মধ্যে প্রায় ৯ মাসের ব্যবধান রয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছর হলেও মামলায় তাদের বয়স ১৮ বছর দেখানো হয়েছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।

​স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন মৃধা, কাসেম প্যাদা, রফিক মৃধা, ইউনুস মৃধা, শেফালী বেগম, শাহানারা বেগম ও গনি আকনসহ অন্যান্যরা বলেন, “আমাদের এলাকায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কখনো ঘটেনি বা শুনিনি। তবে তাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে আমরা জানি। হঠাৎ এই ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ শুনে আমরা অবাক হয়েছি এবং এটি একটি সাজানো নাটক বলে মনে করছি।” এ সময় মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও তাদের সহপাঠীদের বিরুদ্ধে দেওয়া মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

​কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আঃ সালাম মৃধা জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তাঁর জানা নেই। তবে তিনি শুনেছেন যে স্কুলের তিন ছাত্রকে আসামি করে মামলা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “উভয় পক্ষের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে এর আগেও গ্রাম আদালতে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাস আগের ঘটনা দেখিয়ে মামলা করায় মনে হচ্ছে স্থানীয় কারো প্ররোচনায় বা পূর্ববিরোধের জেরে এটি একটি নাটকীয় মামলা সাজানো হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”

​৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল হাওলাদার বলেন, “আমার ওয়ার্ডের ঘটনা অথচ আমি নিজেও বিষয়টি জানতাম না। আজ মানববন্ধনের পর জানতে পেরেছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে এলাকায় অবশ্যই জানাজানি হতো। ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। যেহেতু বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে, তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক।”
​এ বিষয়ে মামলার বাদী পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।