ঢাকা | অক্টোবর ১৯, ২০২৬ - ৯:৫২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩২১ বছরের ঐতিহ্যবাহী বারঘরিয়া বাইশপুতুল দুর্গামন্দির পরিদর্শনে ট্রাস্টি তাপসী দত্ত

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, October 19, 2026 - 2:40 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 15 বার

ইমাম হাসান জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেছেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি তাপসী দত্ত। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী তিথিতে তিনি ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি পরিদর্শন করেন।

এ সময় মন্দিরের পূজার আয়োজন, সার্বিক পরিবেশ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। প্রায় ৩২১ বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দির। আনুমানিক ১৭০৫ সাল থেকে বংশানুক্রমে এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। রাজশাহী অঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এ পূজায় ২২টি মূর্তির সমন্বয়ে প্রতিমা নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এ মন্দিরে প্রতিমা দর্শনে আসেন।

পরিদর্শনকালে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি তাপসী দত্ত বলেন, বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। এ মন্দিরের উন্নয়ন এবং ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। তাপসী দত্ত চারটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী মৃণাল কান্তি পাল জানান,

আনুমানিক ১৭০৫ সাল থেকে এ পূজা বংশানুক্রমে চলে আসছে। একসময় চৌডালা এলাকাকে কেন্দ্র করে পূজাটি অনুষ্ঠিত হতো। জনশ্রুতি রয়েছে, একবার ভয়াবহ বন্যায় পূজার কাঠামোটি ভেসে বারঘরিয়া এলাকার নদীর ঘাটে চলে আসে। পরে পূর্বপুরুষদের স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে ওই স্থানে পূজা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী এ পূজা চলে আসছে। পরিদর্শনকালে মন্দিরের সভাপতি প্রণব কুমার পাল ও সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি পালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাঁরা মন্দিরের ইতিহাস, পূজার আয়োজন ও বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ট্রাস্টিকে অবহিত করেন। পাশাপাশি মন্দিরের উন্নয়ন এবং প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতা কামনা করেন। মহাষ্টমী উপলক্ষে মন্দিরসহ জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। চণ্ডীপাঠ, পূজা-অর্চনা ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন ভক্তরা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো। মহাষ্টমীর

 

অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সন্ধিপূজাকে ঘিরেও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। দীর্ঘ ৩২১ বছরের ঐতিহ্য, ২২টি মূর্তির ব্যতিক্রমী আয়োজন এবং প্রচলিত ইতিহাসের কারণে বারঘরিয়া বাইশপুতুল দুর্গামন্দির চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।