প্রচ্ছদ » » ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
- দৈনিক নবোদয় ডট কম
- আপডেট: Sunday, February 25, 2024 - 7:17 pm
- News Editor
- পঠিত হয়েছে: 90 বার
ষ্টাফ রিপোর্টারঃ দেশের আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক কর্মচারী, পীর মাশায়েখ ও আলেম-ওলামাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল ও আবেগের প্রতিষ্ঠান ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব প্রাপ্তদের এর বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পর এবার বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড.মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ এর বিরুদ্ধে মাত্র মাত্র ১০ মাসেই বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ণীতির মাধ্যমে আইন নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশের আলিম মাদরাসাকে ফাজিল- ও ফাজিল মাদরাসাকে কামিল মাদ্রাসায় উন্নীত করে প্রায় ৯৬ মাদরাসা হতে পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আব্দুর রশিদ।
পরিসংখ্যানে দেখা যায় গত ৮ বছরে যে পরিমাণ মাদরাসায় ফাজিল এবং কামিল পাঠদানের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল বর্তমান ভিসি যোগদানের পর গত ১০ মাসে তার সংখ্যা সম পরিমাণ ফাজিল,কামিল মাদরাসায় প্রাথমিক পাঠদান এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে যা বিস্ময়কর। এবং গ্রাম গাঞ্জে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা শর্ত পূরণহীন অযোগ্য মাদ্রাসায় ফাজিল এবং কামিলের কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এতে শিক্ষার মান একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে নতুন স্থাপিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নকলের মহোৎসব চলছে এসব পরীক্ষা কেন্দ্র ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে স্হাপন করার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও তিনি শিক্ষাক্রম অনুমোদন, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন, মাদ্রাসা নবায়ন, পরীক্ষা পরিচালনাসহ সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করাসহ অসংখ্য দুর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ইউজিসির নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা চলাকালে একাধিক নিয়োগ, নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা লাভসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সবিস্তারে জানানো অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসব অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখতে গত ২৬ নভেম্বর দেশের উচ্চশিক্ষার তদারক সংস্থা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ইউজিসি সদস্য ড. হাসিনা খানের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি এসব অভিযোগের তদন্তে নেমেছে বলেও জানা গেছে।
সুত্র জানিয়েছে- দেশের ফাজিল-কামিল মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষাক্রম অনুমোদন,অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন, মাদ্রাসা নবায়ন, পরীক্ষা পরিচালনাসহ সার্বিক তত্ত্বাবধান করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। নিয়োগে জালিয়াতির দায়ে সহকারী রেজিস্ট্রার ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস মো. জাকির হোসেন, এবং উপ-রেজিস্ট্রার আবু হানিফাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মোহাম্মদ আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে। দেশের উচ্চশিক্ষার তদারক সংস্থা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)
ওই অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে সুত্রটি।
ইউজিসিতে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, আব্দুর রশিদ মাদ্রাসায় পরিদর্শন, অধিভুক্তি, প্রাথমিক পাঠদান, নবায়ন, তদন্ত, নিয়োগ প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণসহ নানা কাজে গেছেন। তিনি মাদ্রাসা অধিভুক্তি ও নবায়নে পরিদর্শনে গেলে গড় হিসেবে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেন। আর প্রাথমিক পাঠদানের অনুমোদনের জন্য চুক্তিভিত্তিক ফাজিল ও কামিল প্রতিটি মাদরাসা থেকে তাকে দিতে হয় পাচ থেকে দশ লাখ টাকার বড় একটি অংশ। এবং অন্নান্য বিষয়ের জন্য ভিসিকে দিতে হয় কমপক্ষে এক লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা। গিয়ে দাঁড়ায় এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা। প্রিন্সিপাল-ভাইস প্রিন্সিপাল নিয়োগে প্রতিনিধি হিসেবে গেলেও তাকে এক লাখ টাকার নিচে দিলে নেন না। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও টিএ/ডিএ নেন এমন অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে- সরকারী নীতিমালা অনুসারে যে সব মাদ্রাসা ফাজিল- কামিল শ্রেণীতে উন্নীত করণে পর্যাপ্ত ভবন, অবকাঠামো,ভূমি,শিক্ষক,শিক্ষার্ থী নেই দূরত্তের নেই কোন শর্ত পূরণ সেসব মাদ্রাসাগুলো আলিম থেকে ফাজিল-ও ফাজিল থেকে কামিল শ্রেনীর প্রাথমিক পাঠদানের অনুমোদনের সুপারিশ করে তিনি প্রতিটি মাদরাসা থেকে পাঁচ থেকে দশ লক্ষ টাকা সুবিধা নিচ্ছেন।
এসব মাদ্রাসাগুলো ভিজিট করতে তার পূর্ব পরিচিত জগন্নাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার আখতারুজ্জামান রেজিস্ট্রার কামরুল ইসলাম (যাকে তিনি চল্লিশ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন) কে কন্টাক্ট ভিত্তিতে দায়িত্ব দিয়ে ভিজিট করান যার সত্যতা সুষ্ঠু তদন্ত ও গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে জানা যায়।
এছাড়া তিনি যুদ্ধ অপরাধি কাদির মোল্লার জামতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডক্টর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম কে নিয়োগ বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় এর বিভিন্ন কার্যক্রমে চুক্তিভিত্তিক কাজে লাগান। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিপত্র কাগজপত্র প্রসেসিং এর জন্য এবং টাকা লেনদেনের জন্য অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ওয়াজিউল্লা, মনির হোসেন ও জাহাঙ্গীরকে ব্যবহার করেন।আর এই সকল জামাত বিএনপিপন্থী শিক্ষকগণ দেশের ফাজিল কামিল মাদরাসায় বিএনপি ও জামাতপন্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ড.মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপালসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগে প্রতিনিধি হিসেবে নিজেই নিজের নামে চিঠি ইস্যু করেন। বরিশালের বাঘিয়া আল আমিন কামিল মাদ্রাসায় প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগে বড় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেখান থেকে তিনি বড় অঙ্কের টাকা নিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের খোশবাজার ছালেহিয়া দারুচ্চুন্নাত কামিল মাদ্রাসার নিয়োগ প্রতিনিধি হিসেবে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি ঢাকায় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তিনি ওই মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দেন। পটুয়াখালীর দুমকী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি অনুমোদন নিয়ে মামলা থাকার পরও তিনি তা অনুমোদন দেন। রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার পাইকান আকবরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা পরিদর্শনে নিজেই নিজের চিঠি অনুমোদন করেন। এমনকি নিজেই আবার নিজের টিএ/ডিএ বিল অনুমোদন করেন।
পটুয়াখালীর ওয়াযেজ আবাদ মোস্তাফিজিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় কামিল পরীক্ষা কেন্দ্র অনুমোদন, অথচ এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একজন জামাতপন্থী যিনি বিভিন্ন সভা সেমিনারে প্রকাশে সরকারের বিরোধিতা করে সরকারকে হুমকি দিয়ে কথা বলে। সমালোচনা চলছে যিনি প্রকাশে সরকারের বিরোধিতা করেন,এমন একজন প্রকাশ্য বিএনপি জামাতের দোসর দ্বারা পরিচালিত মাদ্রাসাটি কিভাবে সরকারের সুবিধা পেলো? অথচ দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কত শিক্ষকরা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রশিদ বলেন নেতা এমপি,মন্ত্রীদের তদবিরে আমার এসব করতে হয়।
আরও পড়ুনঃ
সর্বশেষ আপডেট








