বেরোবি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনে অনশনে ৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ
রেখা মনি, ব্যুরো প্রধান রংপুর : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। রবিবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি সোমবারও (১৮ আগস্ট) চলছে।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। এরই মধ্যে অনশনে অংশ নেওয়া ৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন-জাহিদুল ইসলাম জয়,মোহাম্মদ নয়ন মিয়া, মো. আরমান হোসেন, রুম্মানুল ইসলাম রাজ ও মাহিত আলী। এর মধ্যে জাহিদুল ইসলাম জয় রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এবং সোমবার সকালে মাহিত আলী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. এ এম এম শাহরিয়ার জানান, জয় রক্তচাপ কমে যাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অনশনে থাকা শিক্ষার্থীরা বলেন, “ছাত্র সংসদ আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। রোডম্যাপ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন ও আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন,
“আগামী নভেম্বরের মধ্যেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও আশ্বস্ত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরপরই আবু সাঈদের হত্যার বিচার ও ছাত্র সংসদ ইস্যু নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে বলব। আশা করি স্বায়ত্তশাসিত চার বিশ্ববিদ্যালয়ের পর বেরোবিতেই প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আবু সাঈদের সহযোদ্ধাদের দাবি থাকতেই পারে। প্রশাসন এই দাবিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। তবে ছাত্র সংসদের জন্য এখনো গেজেট প্রকাশ হয়নি। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব হবে।”
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, “আমরা আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ছাত্র সংসদ চাই। প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পার হলেও এখানে নির্বাচন হয়নি-এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা।”
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, “লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির কারণে ক্যাম্পাস একসময় আতঙ্কে ছিল। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংসদ থাকলে কোনো সরকারই ফ্যাসিস্ট হতে পারবে না।”
শিক্ষার্থী আশিক রহমান বলেন, “ছাত্র সংসদ আমাদের প্রাণের দাবি। কোটা আন্দোলনের ৯ দফার মধ্যে এটি অন্যতম ছিল। জুলাই বিপ্লবের এক বছর পার হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ হয়নি। ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে।”
এর আগে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর ঘোষণা না আসায় তারা আমরণ অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরে বেরোবিতে কখনো কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের প্রভাব ও লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির কারণে সাধারণ
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদের কোনো ধারা নেই। এ কারণে নীতিমালা তৈরি করে তা সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে পাস করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই ভোটার তালিকা প্রণয়ন, অর্থ সংরক্ষণসহ প্রস্তুতির পর নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।








