ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ২:৫৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

রাতে সাগরযাত্রা শেষে, সকালে বোট ভর্তি পচা ইলিশ নিয়ে ঘাটে জেলেদের ট্রলার

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, October 27, 2025 - 1:48 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 42 বার
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ টানা ২২ দিনের মা
ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই কুয়াকাটাসহ পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপকূলে ট্রলারভর্তি মাছ নিয়ে ফিরছেন গভীর সমুদ্রের জেলেরা। তবে সেই মাছের বড় একটি অংশ নষ্ট অবস্থায় ঘাটে ওঠানোর চিত্র  দেখা গেছে  নানা প্রশ্নের জন্ম। স্থানীয়দের ধারণা, নিষেধাজ্ঞা ভেঙেই কিছু অসাধু জেলে আগেই গভীর সমুদ্রে ইলিশ ধরে ট্রলার ভর্তী করেছিলেন।
সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা শেষ হয় ২৫ অক্টোবর মধ্যরাতে। এরপর ২৬ অক্টোবর রাত থেকেই আলিপুর, মহিপুর ও কুয়াকাটা মৎস্য বন্দরে ভিড়তে শুরু করে ট্রলারগুলো। তবে সকালে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়—ভালো মাছের চেয়ে নষ্ট মাছের উপস্থিতিই বেশি।
একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলে জানান, “আমরা নিষেধের সময় সমুদ্রে ছিলাম না, কিন্তু যেসব ট্রলার আগে থেকেই গভীর সমুদ্রে ছিল, তারাই এখন নষ্ট মাছ নিয়ে এসেছে।”
বিভিন্ন আড়ত–মালিকরাও জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই যে মাছ ঘাটে এসেছে, সেগুলোর বেশিরভাগই আগে থেকেই সমুদ্রে সংরক্ষিত ছিল।
তবে ট্রলার মাঝি  আব্দুল মজিদ বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরই আমরা সমুদ্রে যাই। একবার জাল ফেলেই ১০–১২ মণ মাছ পাই। তবে কিছু মাছ গরমে নষ্ট হয়ে গেছে।”
আরেক মাঝি রিয়াজ জানান, “সমুদ্রে গরম বেশি থাকায় জাল তোলার সময় কিছু মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। তবে নিষেধ ভেঙে মাছ ধরা হয়নি।”
এদিকে, স্থানীয়দের প্রশ্ন—নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই এত বিপুল পরিমাণ মাছ কীভাবে ঘাটে এল? এত অল্প সময়ের মধ্যে এত মাছ ধরা কি সম্ভব, নাকি এগুলো নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ধরা হয়েছিল?
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা’র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ বা মেসেজের জবাব দেননি।
উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন রক্ষায় গত ৩ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য দেশের সব নদী ও সমুদ্রে ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুদ নিষিদ্ধ ছিল।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও ঘাটে নষ্ট পচা মাছ ওঠার ঘটনায় এখন উপকূলে জেলেদের সততা, প্রশাসনের নজরদারি ও আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়।”