ময়মনসিংহের নতুন এসপি মোঃ মিজানুর রহমান
আরিফ রববানী ময়মনসিংহ:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে। এতে ময়মনসিংহ জেলায় নতুন এসপি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোঃ মিজানুর রহমান। এর আগে তিনি টাঙ্গাইল জেলায় পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। মোঃ মিজানুর রহমান শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেেন। মিজানুর রহমান ২৫ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেন।
গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, আদেশটি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।
এর আগে সোমবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’য় লটারি করা হয়। লটারির সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এবার এসপি নিয়োগে বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। আগে যারা এসপি ছিলেন, তাঁদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
পরে পুলিশ ক্যাডারের ২৫, ২৭ ও ২৮তম ব্যাচ থেকে যাচাই বাছাই করে একটি ফিট লিস্ট তৈরি করা হয়। সেই তালিকা থেকেই ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলার জন্য ৬৪ জন কর্মকর্তাকে বেছে নেওয়া হয়।
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের পুলিশের দায়িত্ব বণ্টন ও বদলি পদায়ন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই ঘণ্টার বৈঠক হয়।
সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় লটারির মাধ্যমে জেলা ওয়ারি এসপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ কারণে ছয় জেলায় দেওয়া নতুন এসপি নিয়োগও স্থগিত ছিল।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান গত জুলাই গণ অভ্যুত্থানে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারী মিজানুর রহমান টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করে প্রায় ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীর মনোবল ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। গনঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কটি আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছিলো। মানুষের কোন নিরাপত্তা ছিলোনা, সেই ক্লান্ত লগ্ন মুহূর্তে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কটি আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের কবল থেকে মুক্ত করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাম ঝড়িয়েছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। তার নেতৃত্বে টাঙ্গাইলে মহাসড়কে সংগঠিত হয় একের পর এক ডাকাতির ঘটনা নিরসন হওয়ায় পুলিশের জেলায় ভাবমুর্তি ফিরে আসে। টাঙ্গাইল জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সব কিছুকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে ধৈর্য্য ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।এতে তিনি সফলও হয়েছেন।
টাঙ্গাইলে যোগদানের পর টাঙ্গাইলের বিভিন্ন থানায় প্রায় ১২টির অধিক ডাকাতির মামলা রেকর্ড করা হয়। পরে তার কঠোর নেতৃত্বে এসব মামলায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্যসহ ১১২ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। তাদের মধ্যে ২৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। এই সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
অক্লান্ত পরিশ্রম, উন্নত প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও মেধাবী পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে ব্যপক পরিকল্পনা গ্রহনের মাধ্যমেই যেভাবে টাঙ্গাইলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেছেন পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান। ময়মনসিংহে তার যোগদানে জেলা বাসীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে সেভাবেই এগিয়ে যাবেন এমনটাই প্রত্যাশা ময়মনসিংহবাসীর।








