ঢাকা | এপ্রিল ২৫, ২০২৬ - ৪:৫১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পঞ্চগড়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: গাছচাপায় নিহত ১, আহত ২, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, March 29, 2026 - 4:10 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 64 বার

স্নিগ্ধা খন্দকার নিহা, স্টাফ রিপোর্টারঃপঞ্চগড়ে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে গাছচাপায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে এবং দেয়াল ধসে স্বামী-স্ত্রী আহত হয়েছেন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বড় আকারের শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে গভীর রাতে তা কালবৈশাখীর রূপ নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চানপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে একা অবস্থান করছিলেন চাকাতি বালা (৭০)। প্রবল ঝড়ে বাড়ির পাশের একটি বড় গাছ উপড়ে ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরটি ধসে পড়ে এবং গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বামী নখিয়া চন্দ্র আগেই মারা গেছেন।

নিহতের ছেলে হরেণ চন্দ্র জানান, ঝড়ের তীব্রতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বাইরে বের হতে পারেননি। ঝড় থামার পর তারা গিয়ে চাকাতি বালাকে গাছের নিচে চাপা অবস্থায় দেখতে পান।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের স্টেশন এলাকায় ঝড়ের সময় ময়নুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খুকুমনি সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় পাশের একটি তিনতলা ভবনের ছাদের দেয়াল ভেঙে তাদের টিনের ঘরের ওপর পড়ে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শনিবার সকালে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় অসংখ্য ঘরের টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সদর ও আটোয়ারী উপজেলায় ভুট্টা, গম ও বিভিন্ন শাকসবজিসহ রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া লিচু ও আমের মুকুল ঝড়ে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা, চাল ও শুকনো খাবার প্রদান করেন।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-ইমরান জানান, ঝড়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছচাপায় একজনের মৃত্যু ছাড়াও বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

হঠাৎ এই দুর্যোগে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।