সিলেটে নতুন ডিসি মু. রেজা হাসান: জনস্বার্থের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি?
মোঃ নাসির, প্রতিনিধি: সিলেটের জেলা প্রশাসনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান-কে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এর আগে দায়িত্ব পালনকারী মোহাম্মদ সারওয়ার আলম-কে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
সারওয়ার আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও লুটপাট রোধে অভিযান, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের অনিয়ম দূরীকরণ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীবান্ধব উদ্যোগ—এসব পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।
এছাড়া হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দান ও ব্যবস্থাপনায় অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া কিছু প্রশাসনিক উদ্যোগও ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। এর অল্প সময় পরই তাকে প্রত্যাহার করা হয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের মতামত ও আলোচনা চলছে।
এখন সিলেটবাসীর দৃষ্টি নতুন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের দিকে। তার সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ—সাদাপাথর এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল ও অনিয়ম প্রতিরোধ, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন, ফুটপাত ব্যবস্থাপনা, প্রবাসীবান্ধব সেবা আরও শক্তিশালী করা এবং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট রাখা।
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, ব্যক্তি নয়—জনস্বার্থই হবে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নতুন জেলা প্রশাসক আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সিলেটের উন্নয়ন ও জনসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন—এমনটাই আশা করছেন সবাই।
সিলেটের মানুষ এখন সময়ের অপেক্ষায়। নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রশাসন কতটা কার্যকরভাবে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং চলমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।








