ভাঙ্গা–কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে পটুয়াখালীতে মানববন্ধন,
মু,হেলাল আহম্মদ(রিপন), পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ-ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে একযোগে মানববন্ধন করেছেন পটুয়াখালীর ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক- শ্রমিক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।উক্ত মানববন্ধন আয়োজকরা বলেছেন, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন, শিল্পায়ন এবং নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ককে দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করা সময়ের দাবি। অন্যথায় আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়কে দি পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাস মালিক সমিতির কাউন্টার ইনচার্জ মো. সাইফুল মৃধা কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দি পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির, চেম্বারের পরিচালক বশির হোসেন খান, পরিচালক শফিকুল ইসলাম খান শাহিন এবং জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. খলিলুর রহমান।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বরিশাল বিভাগের উন্নয়নে সমন্বিত কোনো মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলার যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ভাঙ্গা- কুয়াকাটা মহাসড়ক এখনও অধিকাংশ স্থানে দুই লেনের। ২৪ থেকে ৩৬ ফুট প্রশস্ত এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে। পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, বাড়ছে প্রাণহানি ও দুর্ভোগ।
তারা বলেন, কুয়াকাটা দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং পটুয়াখালীতে গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড)। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আধুনিক ও প্রশস্ত মহাসড়কের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরু সড়ক দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চেম্বার সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের দাবি নয়, এটি পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবি। ভাঙ্গা- কুয়াকাটা মহাসড়ক দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করা হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, শিল্পায়ন এবং নিরাপদ যাতায়াতে নতুন গতি আসবে।
তিনি বলেন, আমাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের এই ন্যায্য দাবি তুলে ধরা হবে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি।
বক্তারা আরও বলেন, ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক কেবল একটি সড়ক নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লাইফলাইন। পর্যটন, কৃষি, মৎস্য, শিল্প ও বন্দরভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে এই মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সড়কটি প্রশস্ত না হওয়ায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা, যানজট ও দীর্ঘ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ছয় লেনের মহাসড়ক নির্মাণ হলে দুর্ঘটনা কমবে, যাতায়াত সহজ হবে এবং নতুন শিল্প-কারখানা ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, চলতি বাজেটে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণসহ দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় জাতীয় সংসদেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশাল বিভাগের একাধিক সংসদ সদস্য। একই দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। দিন দিন এ আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে।
মানববন্ধনে ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা দলমত নির্বিশেষে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে ভাঙ্গা- কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্পে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।
কর্মসূচির শেষে আয়োজকরা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে পটুয়াখালীসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান।








