ঢাকা | জুলাই ৮, ২০২৬ - ১২:২২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার অগ্রগতি ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, July 7, 2026 - 1:59 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 12 বার

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন অচল থাকা গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু এবং হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নের মধ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. কামাল হোসেন মুফতির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল হাসপাতালের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালাচ্ছে।

সোমবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডা. কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য স্বাস্থ্য বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং চলমান সেবামূলক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা।”

তিনি বলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, এটি উপজেলার লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল। সীমিত জনবল ও নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিনিয়ত জনগণের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ডা. কামাল হোসেন মুফতি মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর হাসপাতালের বিভিন্ন অচল ও সীমিত সেবাকে পুনরায় সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তার প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অপারেশন থিয়েটার, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, প্যাথলজি সেবা, আই ভিশন সেন্টার এবং অকার্যকর হয়ে পড়া এক্স-রে মেশিন পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে অপারেশন থিয়েটারটি অচল ছিল। পুনরায় চালুর ফলে দীর্ঘদিন পর সরকারি হাসপাতালে সরকারি খরচে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বরাদ্দকৃত ওষুধ সুষ্ঠুভাবে বিতরণ এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাধারণ রোগীদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে ডা. কামাল হোসেন বলেন, “স্বাস্থ্য খাত নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু অসত্য তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার কখনোই জনস্বার্থের পক্ষে নয়। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অনাস্থা তৈরি হতে পারে।”

হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগের কারণে একটি মহলের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। তাদের মতে, চলমান অপপ্রচারের লক্ষ্য হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করা এবং একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে একজন সৎ, জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, হাসপাতালের দৃশ্যমান উন্নয়নকে আড়াল করতেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

ডা. কামাল হোসেন এক লিখিত প্রতিবাদলিপিতে বলেছেন, “আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবাকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, স্বাস্থ্য খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ওঠা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করা এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা এখন সময়ের দাবি।

কারণ শেষ পর্যন্ত এই হাসপাতালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের চিকিৎসা, আস্থা এবং জীবনরক্ষার প্রত্যাশা।ছবি সংযুক্ত আছে।