ঢাকা | জুলাই ১২, ২০২৬ - ১:১৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

নববধূর হাতে মেহেদি রং না মুছতেই মালয়েশিয়ায় কর্মক্ষেত্রে স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যু

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Saturday, July 11, 2026 - 12:15 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 21 বার

মোঃ মোশাররফ হোসেন , সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে মাত্র তিন বছর আগে মালয়েশিয়া প্রবাসে গিয়েছিল শোয়াইব বিশ্বাস (২৩) নামে ফরিদপুরের এক যুবক। সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে গিয়েছিল অনেকটা পথ।
তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে কর্মক্ষেত্রে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এমন খবরে শোকে স্তব্ধ হয়েছে পরিবার, দেশে লাশ আনতে চেয়েছেন সরকারের সহযোগিতা।

‎নিহত শোয়াইব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের শওকত বিশ্বাসের বড় ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল সেজো,শুক্রবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান। এর আগে সকালে মালয়েশিয়ার জহুরবারু এলাকায় কাজ করাকালীন বোম্বক্রেন চাপায় নিহত হয় সে।

‎নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাড়ি জমিয়েছিল শোয়াইব। সেখানে দীর্ঘ তিন বছর একটি কোম্পানিতে কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতে আসে এবং দুই মাস আগে বিয়ে করেন। এরপর ছুটি শেষে গত ১ জুলাই মালয়েশিয়া চলে যায় এবং দেশটির জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অধীনে বোম্ব ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেন।

‎নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, দুপুরে ওই কোম্পানীর দায়িত্বরত বাংলাদেশী এক ব্যক্তি আমার মোবাইলে ফোন করে নিহতের বিষয়টি জানিয়েছে৷ এছাড়া ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে, তাতে নির্মমভাবে মৃত্যুর বিষয় ফুটে উঠেছে। ওই ব্যক্তির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ওই বোম্ব ক্রেনটি শোয়াইব নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে কাজ করত। কাজ করাকালীন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভবনের ছাদের সাথে তাকে চেপে ধরা হয় এবং মেশিনটির চাপে মর্মান্তিকভাবে মারা যায়৷ তাঁরা লাশ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তবে লাশটি দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন- নিহত ব্যক্তি কোনো কোম্পানির অধিনে কাজ করে থাকলে তাঁরা দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে লাশ পাঠাতে পারবে৷ সেখান থেকে কোনো সহযোগিতার না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং বৈধ কর্মী হয়ে থাকলে আমরা লাশ আনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করব।

তাছাড়া মরদেহ দেশে এলে বিমান বন্দর থেকে লাশ বহন ও দাফন বাবদ নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে এবং পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ বাবদ এককালীন তিন লাখ টাকা দেয়া হবে।