ঢাকা | জুলাই ১৭, ২০২৬ - ৪:৩১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

বড় মঞ্চের মহানায়ক, মেসির জাদুতে ফের বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, July 15, 2026 - 10:09 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 21 বার
ক্রীড়া প্রতিবেদক: যখনই দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই স্বরূপে আবির্ভূত হন তিনি। দেখান কেন তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে আরও একবার খাদের কিনারা থেকে আর্জেন্টিনাকে টেনে তুললেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মাত্র ৭ মিনিটের অবিশ্বাস্য ঝড়ে ইংলিশদের স্বপ্ন ভেঙে দলকে নিয়ে গেলেন টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে।সেমিফাইনাল মানেই ‘মেসি শো’ ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে দেখা যাবে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মঞ্চে মেসি সবসময়ই অনন্য।

 ২০১৪ (ব্রাজিল): ২৪ বছর পর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে প্রথম শটেই গোল করে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মেসি।

২০২২ (কাতার): ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোল করার পাশাপাশি আসরের সেরা ডিফেন্ডার ইয়োস্কো গভারদিওলকে বোকা বানিয়ে জুলিয়ান আলভারেজকে দিয়ে করানো সেই জাদুকরী অ্যাসিস্ট এখনো ফুটবলপ্রেমীদের চোখে লেগে আছে। সেবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল তার।

 ২০২৬: এবার সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ যখন শক্তিশালী ইংল্যান্ড, তখন ০-১ গোলে পিছিয়ে থাকা দলকে খাদের কিনারা থেকে একাই টেনে তুললেন ‘এলএমটেন’।

মাত্র ৭ মিনিটের মহাকাব্য!

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ইংলিশ রক্ষণ যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই শুরু হলো মেসির আসল জাদু।

৮৬তম মিনিট (১ম অ্যাসিস্ট): একটি বুদ্ধিদীপ্ত শর্ট কর্নার থেকে বল নিয়ে দারুণভাবে ডি-বক্সের দিকে এগিয়ে যান মেসি। সবাই যখন ভাবছিল তিনি নিজেই শট নেবেন, ঠিক তখনই বক্সের বাইরে ফাঁকায় থাকা এনজো ফের্নান্দেসের দিকে বল বাড়িয়ে দেন। এনজোর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।

যোগ করা সময় (২য় অ্যাসিস্ট): সমতার স্বস্তি কাটতে না কাটতেই যোগ করা সময়ের শুরুতে আবার ডান প্রান্তে বল পান মেসি। সেখান থেকে তার মাপা ও নিখুঁত ক্রসে লাফিয়ে উঠে দর্শনীয় হেডে বল জালে জড়ান লাউতারো মার্তিনেজ।

মাত্র ৭ মিনিটে করা মেসির এই দুই জাদুকরী অ্যাসিস্টে ম্যাচ ঘুরে যায় ১৮০ ডিগ্রি। ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে অবধারিতভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কারটি উঠেছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের হাতেই। তবে ব্যক্তিগত সব অর্জন ছাপিয়ে মেসির মনোযোগ এখন কেবলই ট্রফিতে। নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে আরও একটি ফাইনাল উপহার দেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য, যা তিনি মাঠেই প্রমাণ করেছেন।

বড় খেলোয়াড়রা যে আসলেই বড় মঞ্চের জন্যই তৈরি হন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তা আবারও বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি। এবার অপেক্ষা আরেকটি মহাকাব্যিক ফাইনালের।