ঢাকা | জুলাই ১৭, ২০২৬ - ৪:৩০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ভূরুঙ্গামারীতে ‘কৃষক কার্ড’ এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনঃ ১০টি প্রধান সুবিধা পাবেন কৃষকরা।

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, July 16, 2026 - 2:12 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 81 বার

ভূরুঙ্গামারী, (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার “কৃষক কার্ড” প্রণয়ন ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ ১৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে সারা দেশে ১২টি উপজেলায় একযোগে শুরু হয়েছে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম। এরই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।

উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড (ব্লক) থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করার লক্ষ্যে ছোট খাটামারী অষ্টমীর পাড় এলাকার বাসিন্দা কৃষক মোঃ সুলতান হোসেন (পিতা: মৃত সিরাজ আলী)-এর বাড়িতে নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই যুগান্তকারী কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল ব্লকে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব অমৃত দেব নাথ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব আব্দুল জব্বার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মোঃ আজিম উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক জনাব কাজি মোঃ আলাউদ্দিন মন্ডল, সদস্য সচিব জনাব শহিদুল ইসলাম আকন্দ এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জয়মনিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ।

ডিজিটাল পরিচয় সম্বলিত এই “কৃষক কার্ড” চালু হলে দেশের কৃষকরা সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সেবার আওতায় সরাসরি ১০টি প্রধান সুবিধা ভোগ করতে পারবেনঃ
১। ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণঃ কৃষকরা সরাসরি সরকারিভাবে নির্ধারিত মূল্যে বীজ, সারসহ অন্যান্য উপকরণ পাবেন।
২। সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদানঃ সরকারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত আর্থিক ভর্তুকি ও বিশেষ প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে।
৩। স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তির সুবিধাঃ আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়ার সুবিধা থাকবে।
৪। ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধাঃ সেচ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা স্বল্প ব্যয়ে নিশ্চিত করা হবে।
৫। সহজ শর্তে কৃষিঋণঃ কোনো জটিলতা ছাড়াই কৃষকরা সহজ শর্তে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ সুবিধা পাবেন।
৬। কৃষি বীমা সুবিধাঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফসলের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে বীমার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৭। ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধাঃ মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এড়িয়ে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন।
৮। কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণঃ ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চাষাবাদের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

৯। মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রাপ্তিঃ ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বাজারের সর্বশেষ দরদাম জানা যাবে।
১০। মোবাইলে ফসলের চিকিৎসা সুবিধাঃ ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে ডিজিটাল মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা মিলবে।

ডিজিটাল এই কার্ডের আওতা কেবল ফসল উৎপাদনকারী কৃষকদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; মাঠপর্যায়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষী, প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধখামারীরাও সমানভাবে এই কৃষক কার্ডের সকল সুবিধা ও সেবা লাভ করবেন।