ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে মানুষের স্বস্তি, ভিড় বাড়ছে সহায়তা প্রত্যাশীদের
আরিফ রববানী ময়মনসিংহ:ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন করেছেন ডিসি সাইফুর রহমান। গণশুনানিতে কেউ আসেন সুপেয় পানির ব্যবস্থা কিংবা অসুখ-বিশুখ আর সন্তানের পড়ালেখার সহযোগিতার জন্য আবার করেন জমি সংক্রান্ত সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ। জেলা প্রশাসক একে একে সবার কথা শুনেন। কিছু বিষয়ের দেন সমাধান আবার কিছু অভিযোগে ব্যাপারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাই এমন গণশুনানিতে এসে সমস্যার সামাধান পেয়ে স্বস্তি নিয়ে বাড়ী ফিরেন সাধারণ মানুষ। আর এই কারণে জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানুষের। তবে জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান একজন মানবিক মানুষ হওয়ায় মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের ভিড় ক্রমশঃ বাড়ছেই। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।
স্বামীহারা এক অসহায় নারী মোছাঃ খাদিজা খাতুন ০৩ জন প্রতিবন্ধী সন্তানের মা। তাঁর ০৩ জন সন্তানই বিরল রোগে আক্রান্ত। প্রতিনিয়তই তিনি বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহ এর পক্ষ থেকে তাঁকে একটি চেক প্রদান করা হয়।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ৩১ নং ওয়ার্ডের একজন স্থায়ী বাসিন্দা চরঈশ্বরদিয়া এলাকার মিরাজ আলীর ছেলে সোলায়মান। একজন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী।অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিলো। জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে উপস্থিত হয়ে সমস্যার কথা জানান জেলার অভিভাবককে।
তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি সাইফুর রহমান।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ময়মনসিংহের ফুলচানের ছেলে আব্দুর রহিম, দীর্ঘদিন যাবৎ চোখের সমস্যা ভোগছেন। অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না।ডাক্তার দেখানোর জন্য জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহ এর পক্ষ থেকে তাকেও একটি চেক প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি সাইফুর রহমানকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনও নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।
এমনই একজন হালুয়াঘাট থেকে এসেছিলেন গণশুনানিতে। তার অভিযোগ, একজন ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে তাদের খতিয়ান করে নিয়েছে। এ অভিযোগ শুনে সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ডকে সরাসরি নির্দেশ দেন ডিসি। তিনি বলেন, আমরা এতদিন যে সমস্যায় ছিলাম, আজ মনে হলো সব শেষ হলো। মানুষটা সত্যিই আলাদা।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, মানুষ আশা নিয়ে আমাদের কাছে আসে। তাদের কথা শোনা এবং সমস্যার সমাধান করা আমাদের দায়িত্ব। দুঃস্থ বা বয়োবৃদ্ধ— আমার অফিস সবার জন্য উন্মুক্ত। নিয়মিত গণশুনানি মানুষের আস্থা বাড়ায় এবং প্রশাসনকে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে আসে।
গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।








