ঢাকা | আগস্ট ২২, ২০২৬ - ১:২৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

আমার চোখে দেখা বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান-

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Friday, August 21, 2026 - 4:38 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 27 বার

মো. নাসির নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশের সামরিক নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ২০২৪ সালের ২৩ জুন তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিন দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব পালন করেছেন।

আমার চোখে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

আমার চোখে একজন সেনাপ্রধানের সবচেয়ে বড় পরিচয় শুধু তাঁর পদবি নয়—তাঁর পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে আমি একজন অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল সামরিক নেতা হিসেবে দেখি।

সেনাবাহিনীতে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, একটি স্বাধীন পদাতিক ব্রিগেড এবং একটি পদাতিক ডিভিশনের কমান্ড করেছেন। সেনা সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি মিলিটারি সেক্রেটারি এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তিনি অ্যাঙ্গোলা ও লাইবেরিয়ায় দায়িত্ব পালন করেছেন। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সুনাম ও অবদানের সঙ্গে তাঁর এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত।

পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব

সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য ও কার্যক্রমে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

আমার কাছে এটি একজন সামরিক নেতার গুরুত্বপূর্ণ গুণ। কারণ একটি আধুনিক সেনাবাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র ও প্রশিক্ষণে নয়; শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং জনগণের প্রতি সম্মানও তার বড় শক্তি।

আধুনিক ও দক্ষ সেনাবাহিনীর প্রত্যাশা

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একটি আধুনিক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব, প্রশিক্ষণ, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে—এটাই প্রত্যাশা।

এছাড়া তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তিনি তুরস্ক সফর করে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যার লক্ষ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা।

একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমার প্রত্যাশা

একজন প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, দেশের সেনাবাহিনী শুধু জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নয়—দুর্যোগ মোকাবিলা, শান্তিরক্ষা এবং জাতীয় প্রয়োজনে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমার চোখে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একজন অভিজ্ঞ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল সেনা কর্মকর্তা। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।

আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করি। দেশের প্রতি তাঁর দায়িত্ব পালনে সর্বদা সাফল্য আসুক—এই শুভকামনা রইল।