ঢাকা | আগস্ট ২৮, ২০২৬ - ১১:৩৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ভোলাহাটের বিনোদন ও সৌন্দর্য বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার মুন্সিগঞ্জ মাঠ ও মহানন্দার তীর!

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Friday, August 28, 2026 - 4:04 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 8 বার

এম. এস. আই শরীফ, প্রতিনিধি, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ):চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার বৃহত্তর বজরাটেক এলাকার মুন্সিগঞ্জ মাঠ ও মহানন্দা নদীর তীর ঘিরে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। পরিকল্পিত উন্নয়ন, নিয়মিত পরিচর্যা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়া হলে এ এলাকাটি হয়ে উঠতে পারে ভোলাহাটের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্রীড়া, বিনোদন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কেন্দ্র।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা মহানন্দার তীর, বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ, নির্মল বাতাস ও সবুজ পরিবেশ—সব মিলিয়ে এলাকাটিকে ঘিরে রয়েছে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন ও বিনোদন স্পট গড়ে তোলার সুযোগ। প্রয়োজন শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা।

মুন্সিগঞ্জ মাঠ হতে পারে বড় টুর্নামেন্টের ভেন্যু
একটি মাঠ কেবল খেলাধুলার জায়গা নয়; এটি একটি এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুস্থ বিনোদন, শারীরিক সক্ষমতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করে আনন্দ-বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠা সম্ভবপর যদি সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি পড়ে।

উপজেলার বৃহত্তর বজরাটেক গ্রামের মুন্সিগঞ্জ মাঠটি নিয়মিত পরিচর্যার আওতায় এনে সমতল ও খেলাধুলার উপযোগী করা গেলে এখানে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও বড় পরিসরের টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। মাঠে উন্নতমানের ঘাস লাগানো, সীমানা নির্ধারণ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণ এবং দর্শকদের বসার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা গেলে এটি এলাকার ক্রীড়াপ্রেমী তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

মহানন্দার তীরে হতে পারে শিশু পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্র
মুন্সিগঞ্জ হাট থেকে মহানন্দা নদীর তীর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে সৌন্দর্যবর্ধন করা গেলে পুরো এলাকাটিই একটি মনোরম বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে নদীর তীরে শিশুদের জন্য একটি পরিকল্পিত শিশু পার্ক, হাঁটার পথ, বসার বেঞ্চ, ছায়াদানকারী বৃক্ষ, ফুলের বাগান এবং পরিচ্ছন্ন খোলা জায়গা তৈরি করা গেলে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য চমৎকার একটি পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্ক ও বিভিন্ন বয়সী মানুষের হাঁটাচলা, অবসর সময় কাটানো এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগের সুযোগও তৈরি হতে পারে। সরকারী জমি থাকলে জরিপ ও দখলমুক্তির উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্যনুযায়ী, ঝাউবোনা ব্রীজ হতে বজরাটেক ঘাট ও মহানন্দা নদীর তীরবর্তী কিছু জায়গা দীর্ঘদিন ধরে যথাযথভাবে ব্যবহার বা সংরক্ষণ করা হচ্ছে না।
তবে এসব জমির প্রকৃত মালিকানা ও সরকারী স্বত্ব যথাযথ জরিপ ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কোনো জমি সরকারী বা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হয়ে থাকলে এবং সেখানে অবৈধ দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তা উদ্ধার করে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষ জরিপ ও আইনগত যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুন্সিগঞ্জ হাট হতে মহানন্দা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন জরুরী:
মুন্সিগঞ্জ হাট থেকে মহানন্দা নদীর তীর পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন করা গেলে শুধু বিনোদনকেন্দ্র নয়, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সড়কের দু’পাশে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, প্রয়োজনীয় স্থানে আলোকসজ্জা, পথচারীদের চলাচলের সুবিধা এবং দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সাইকেল ও মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একটি পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন সড়ক পুরো এলাকার সৌন্দর্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

মহানন্দার তীরের সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা: মহানন্দা নদী ভোলাহাটের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষও নদীর তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তাই নদীর তীর, ব্লক, রাস্তা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধে নির্দিষ্ট স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। নদীর তীরে বসার স্থান, ফুলের গাছ এবং ছায়াদানকারী বৃক্ষ রোপণ করা হলে প্রকৃতির সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
পরিকল্পিত দোকানপাট বদলে দিতে পারে এলাকার চেহারা। নদীর তীরবর্তী এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট নকশা, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা গেলে পুরো এলাকার দৃশ্যপট বদলে যেতে পারে।

একই ধরনের দৃষ্টিনন্দন সাইনবোর্ড, নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার স্থান এবং পথচারীদের চলাচলের জায়গা নিশ্চিত করা হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও উপকৃত হবেন। পরিকল্পিত দোকানপাটের সঙ্গে স্থানীয় খাবার, চা-নাশতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা থাকলে এটি ধীরে ধীরে একটি প্রাণবন্ত বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

সবুজায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব: মুন্সিগঞ্জ মাঠ, হাট হতে নদীর তীর পর্যন্ত সড়ক এবং মহানন্দার পাড়জুড়ে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ করা যেতে পারে। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৃক্ষ নির্বাচন করে রাস্তার পাশে, মাঠের চারপাশে ও নদীর তীরে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা সম্ভব। সবুজ ঘাসের মাঠ, ছায়াঘেরা পরিবেশ, নদীর নির্মল বাতাস ও খোলা প্রকৃতি মানুষের শারীরিক প্রশান্তির পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিরও বড় উৎস হতে পারে।

সমন্বিত পরিকল্পনায় গড়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় ক্রীড়া-বিনোদন অঞ্চল: মুন্সিগঞ্জ মাঠ, মুন্সিগঞ্জ হাট, মহানন্দা নদীর তীর এবং আশপাশের খোলা জায়গাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আনা হলে ভোলাহাটে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ক্রীড়া-বিনোদন অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব।

এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর, ক্রীড়া সংগঠন, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণকে স