ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ - ৬:১৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর রক্ষাবাঁধ দখল করে বহুতল ভবন, দোকানসহ নানা স্থাপনা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, September 7, 2026 - 11:03 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 9 বার

স্নিগ্ধা খন্দকার, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃপঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর রক্ষাবাঁধ দখল করে বহুতল ভবন, আধা পাকা বাড়ি, দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও বাঁধের ব্লক সরিয়ে বালু ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আবার কোথাও নদীর জায়গায় আরসিসি পিলার দিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে গাছ লাগানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব দখল চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনগড় সিনেমা হল এলাকা থেকে রাজনগড় খালপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, করতোয়া নদীর রক্ষাবাঁধের বিভিন্ন অংশে বসতবাড়ি, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও বাঁধের জায়গায় বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে। আবার কোথাও নদীর পাড় ঘেঁষে আরসিসি পিলার দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ধীরে ধীরে নদীর জায়গা দখল করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করছেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এসব দখল ও স্থাপনা নির্মাণ হয়েছে। তবে এসব স্থাপনা পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

নদীর রক্ষাবাঁধের জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে প্রবাসী ফিরোজ আহাম্মেদের বিরুদ্ধেও। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি প্রায় ২ শতক ১০ পয়েন্ট জমি কিনেছেন। তবে এর বাইরে আরও প্রায় দুই শতক জায়গা দখল করে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে তাঁর বাড়ির পাশে বাঁধের ব্লক সরিয়ে বালু ভরাট করতে দেখা যায়। নদীর পাড় ঘেঁষে আরসিসি পিলার দিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে মেহগনি গাছের চারাও লাগানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ফিরোজ আহাম্মেদ বলেন, তিনি নদীর জায়গা দখল করেননি। তিনি বলেন, সেখানে একটি গাইড ওয়াল দেওয়া হয়েছে, যাতে পানিতে বাড়ির কোনো ক্ষতি না হয়। পৌরসভার লোকজন এসে জায়গা দেখে গেছে। বাড়তি যে জায়গাটুকু করা হয়েছে, সরকারের প্রয়োজন হলে তা ভেঙে দেওয়া হবে।

তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে তৎকালীন পৌর মেয়রের সঙ্গে সমঝোতা করে ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। এ অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন মেয়রের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরেক দখলকারী শহীদুল ইসলাম বলেন, যে জায়গায় বাড়ি করেছি, সেখানে জায়গা হচ্ছে না। তাই পাশে ফাঁকা জায়গায় বাথরুম করেছি। সরকার যদি জায়গা নিয়ে নেয়, তাহলে আমাদের করার কিছু নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ইরান বলেন, রাজনগড় সিনেমা হল থেকে খালপাড়া পর্যন্ত করতোয়া নদীর জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই দখলদারদের তৎপরতা বাড়ছে।

স্থানীয় গৃহিণী মুন্না আক্তার বলেন, আগে নদীর ধারে বসে মানুষ বাতাস খেত। এখন নদীর জায়গা দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে এবং বাঁধের ব্লক সরানো হচ্ছে। এভাবে দখল চলতে থাকলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব সাহা বলেন, কেউ নদীর জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে থাকলে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন বলেন, নদী দখলকারীদের একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে। কেউ নদীর জায়গা দখল করে থাকলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।