যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স শেষে চাকরি না পেয়ে তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু
প্রতিবেদক: মো. নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র):যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের তরুণ সাই প্রদীপ। কিন্তু মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়া, আর্থিক চাপ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবার ও বন্ধুদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরে ২১ আগস্ট টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৬ বছর বয়সী প্রদীপ ২০২৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করার পর প্রায় চার মাস ধরে চাকরির সন্ধান করছিলেন। চাকরি না পাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক চাপ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তার ওপর বড় ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করেছিল বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও বন্ধুদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
পরিবারের সদস্যরা প্রদীপকে প্রাণবন্ত, পরিশ্রমী, ভদ্র ও সদালাপী তরুণ হিসেবে স্মরণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি নতুন ভাষা শেখার প্রতিও আগ্রহী ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
প্রদীপের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং শেষকৃত্যের খরচ মেটাতে পরিবারের পক্ষ থেকে ৩৫ হাজার ডলারের তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়—বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর চাকরি, অভিবাসন পরিস্থিতি, ঋণ ও আর্থিক চাপ অনেক তরুণের জন্য বড় মানসিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কঠিন সময়ের মধ্যে থাকা শিক্ষার্থী ও তরুণদের একা না থেকে পরিবার, বন্ধু, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলর বা পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সহায়তা নেওয়া জরুরি।








