পঞ্চগড়ে অভিনয়ে বাল্যবিবাহ-মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরলেন তরুণেরা
স্নিগ্ধা খন্দকার, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:পঞ্চগড়ে অভিনয়ের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ-মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরলেন একদল তরুণ-তরুণী। কখনো মাদকাসক্ত তরুণ, কখনো ইভটিজিংয়ের শিকার কিশোরী, আবার কখনো বাল্যবিবাহের কারণে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করে মন জয় করেছে স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড় চিনিকল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ব্যতিক্রমী এই সচেতনতামূলক আয়োজন করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানব কল্যাণ যুব সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন জাতের গাছ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, বাল্যবিবাহ ও মাদকের ভয়াবহতা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে প্রচলিত সভা-সেমিনারের পাশাপাশি এবার অভিনয়কে সচেতনতামূলক মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। অভিনয়ের বিভিন্ন দৃশ্যে বাল্যবিবাহের কারণে কিশোরীর শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়া, মাদকের কারণে একজন তরুণের জীবন বিপর্যস্ত হওয়া এবং ইভটিজিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হয়।
মানব কল্যাণ যুব সংগঠনের সভাপতি পারভেজ ইসলাম রাজ ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর রাহাত বলেন, সামাজিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন জাতের গাছ বিতরণ করা হয়। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে স্থানীয়দেরও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও মাদকের মতো সামাজিক সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অভিনয় ও গাছ বিতরণের মাধ্যমে তরুণদের সচেতন করার এ উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এর আগে আয়োজন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মানব কল্যাণ যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিদর্শক এবং পঞ্চগড় চিনিকল উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলারা আলোর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিদর্শক নিশাদুর রহমান, সভাপতি পারভেজ ইসলাম রাজ ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর রাহাতসহ অনেকে।
জানা যায়, ২০২১ সাল থেকে মানব কল্যাণ যুব সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে বাল্যবিবাহ ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সভা, প্রচারাভিযান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে।








