ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সেফ হোমে আটকে থাকা বা আশ্রয় নেওয়া ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যেমে দেশে প্রত্যাবর্তন করছেন। কলকাতা অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রচেষ্টায় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। এরা বিভিন্ন মেয়াদে সেখানে আটকা ছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা যায়, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দণি এশিয়া-১ শাখার সহকারী সচিব এস. এম. রাহাতুল ইসলাম স্বারিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
চিঠিতে জানানো হয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন কর্তৃক ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন সেফ হোমে অবস্থানরত ১৯ জনের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশির নাগরিকত্ব যাচাই ও ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় ১৯ জনের নাম থাকলেও শুভ মজুমদার ওরফে শুভ মজুমদার নামের একজন নাগরিকের পারিবারিক আবেদন এবং সিএএ (ঈঅঅ) সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তিনি আজকের এই দফায় দেশে ফিরছেন না। ফলে বাকি ১৮ জন নারী ও শিশুকে আজ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফেরত আসারা হলো:-খুলনা জেলার মজনু হাওলাদার এর ছেলে সিয়াম হাওলাদার (১৪) সাতক্ষীরা জেলার হৃদয় কুমার মন্ডল এর ছেলে নিউটন কুমার মন্ডল (১৮) একই জেলার মৃদাঙ্গ মিস্ত্রির ছেলে জয়কুমার মিস্ত্রি (১৭) ঠাকুরগাও জেলার ফরমান আলীর মেয়ে অনুজ বেগম (১৩) গাইবান্ধা জেলার বাবলু মিয়ার মেয়ে শাপলা খাতুন (২২) সাতক্ষীরা জেলার রসিদুল এর ছেলে সাকিবুল সরদার (৬) নরসিংদী জেলার রোমান শেখ এর ছেলে আব্দুর রহমান (১৫) বরিশাল জেলার সঞ্জয় কুমার এর ছেলে স্বপন ওঝা (৬) যশোর জেলার আলিম উদ্দিন মোল্যার ছেলে সহিদ মোল্যা (৮) গোপালগঞ্জ জেলার ঢালূ বল্লভ এর মেয়ে লিমা বল্লব (১৬) সাতক্ষীরা জেলার মনির হোসেন মেয়ে সুমি খাতুন (২২) গোপালগঞ্জ জেলার সমীর রায় এর মেয়ে পপি রায় (১৫) খুলনা জেলার সাহাদত এর মেয়ে সোনিয়া আক্তার (১৪) ও সোনিয়া আক্তার এর ছেলে সালমান (১) একই জেলার জীবন সর্দার মেয়ে জান্নাতি বেগম (১৪) লালমনিরহাট জেলা বিশ্বজিৎ এর মেয়ে বনশ্রি রায় (১৬) নারানগঞ্জ জেলার পরশ এর মেয়ে ইমরাত জাহান শ্রাবন্তী (১৬) দিনাজপুর জেলার জাহাঙ্গীর হোসেন এর ছেলে মেহেদী হাসান (১৭)।
যাঁদের প্রত্যাবাসন করা হচ্ছে: তালিকায় থাকা ১৮ জন বাংলাদেশির মধ্যে বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুরা রয়েছে। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের সিনি, কলকাতা, ধ্রুবাস্রম (উত্তর ২৪ পরগনা), ঈশ্বর সংকল্প (কলকাতা), পঙ্কজ আচার্য মহিলা নিবাস (নদীয়া), কিশলয় হোম (উত্তর ২৪ পরগনা), রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন ও এসপএম হোম (হাওড়া) প্রভৃতি সেফ হোমে এতদিন অবস্থান করছিলেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি সাইফুর রহমান বলেন এরা পাসপোর্ট ভিসা বাদে অবৈধপথে ভারত গিয়ে ধরা পড়ে। এরপর বিভিন্ন মেয়াদে সেখানে আটকা থাকার পর আজ বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যেমে দেশে ফেরত আসে।
ফেরত আসাদের বেসরকারী সংস্থা জাস্টিস এন্ড কেয়ার মহিলা আইনজীবি সমিতি ও যশোর রাইটস গ্রহন করেছেন। মহিলা আইনজীবি সমিতির সমন্বয়কারী রেখা বিশ্বাস বলেন ফেরত আসাদের আমাদের যশোর নিজেদের শেল্টার হোমে রাখা হবে। এরপর তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে হস্তান্তর করা হবে।