প্রচ্ছদ » » রাজধানীতে ১০ ককটেল বিস্ফোরণ, পরে বাসে আগুন—কিসের আলামত?
রাজধানীতে ১০ ককটেল বিস্ফোরণ, পরে বাসে আগুন—কিসের আলামত?
- দৈনিক নবোদয় ডট কম
- আপডেট: Saturday, September 19, 2026 - 1:43 pm
- News Editor
- পঠিত হয়েছে: 19 বার
পুলিশ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি, এসব ঘটনায় কারা জড়িত। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কাফরুল থানার কাছাকাছি এলাকায় একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ডিএমপির মিরপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার জানান, থানার সংলগ্ন এলাকায় একটি ফাঁকা বাসে আগুন লাগার খবর তাঁরা পেয়েছেন। ঘটনার বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। কিছুক্ষণ পর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এতে ইবাদুর রহমান নামে এক অটোরিকশাচালক আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উড়ালসড়কের ওপর থেকে নিচে ককটেল ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। তবে বিস্ফোরণের উৎস ও জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এ ছাড়া শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং রাত নয়টার দিকে মগবাজার মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের কিছু ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা এবং কিছু সহিংস ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে এমন একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ এবং পরবর্তী সময়ে ৮৩ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেওয়া হয়।
এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
পরপর কয়েক দিনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় বিস্ফোরণের এসব ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে ঘটনাগুলো একই পরিকল্পনার অংশ কি না, এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে কি না—তা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশও কোনো পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করেনি।
একই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের স্থাপনার কাছে বিস্ফোরণ এবং পরে ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেই এখন বেরিয়ে আসতে পারে এসব ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য, পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের পরিচয়।
আরও পড়ুনঃ
সর্বশেষ আপডেট








