ময়মনসিংহে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় ডিসি’জ এওয়ার্ড ফর ক্লিনলিনেস’ পুরস্কার পেল ১৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
আরিফ রববানী ময়মনসিংহ:‘যেখানে আমি, সেখানেই পরিচ্ছন্নতা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ময়মনসিংহ গড়ার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত ‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলার ১৪টি উপজেলার ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ‘ডিসি’জ এওয়ার্ড ফর ক্লিনলিনেস’ প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, পরিচ্ছন্নতা কেবল একটি অভ্যাস নয়, এটি আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ, পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস এবং জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানের জায়গা নয়, বরং সেখান থেকেই একটি পরিচ্ছন্ন ও সচেতন সমাজ গড়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি হয়।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘যেখানে আমি, সেখানেই পরিচ্ছন্নতা’ এই স্লোগানকে ধারণ করে ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে নয়, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল ও টেকসই করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি ময়মনসিংহবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি টেকসই, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ময়মনসিংহ গড়ে তোলা সম্ভব।
পুরস্কার পেল যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:- ‘ডিসি’জ এওয়ার্ড ফর ক্লিনলিনেস’ পাওয়া ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, ময়মনসিংহ মহানগরীর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মুক্তাগাছার নবারুণ বিদ্যানিকেতন, ফুলবাড়ীয়ার খাদেমুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসা, ভালুকার এ্যাপোলো ইন্সটিটিউট অব কম্পিউটার, ত্রিশালের আমিরাবাড়ী গুজিয়াম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফুলপুরের ছনধরা হাজী আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়, তারাকান্দার হাজী হেলাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হালুয়াঘাটের সানফ্লাওয়ার মডেল স্কুল, ধোবাউড়ার বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গৌরীপুরের পাছার উচ্চ বিদ্যালয়, ঈশ্বরগঞ্জের চরনিখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, গফরগাঁওয়ের ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের কান্দিপাড়া আস্কর আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং নান্দাইলের ঘোষপালা ফাযিল মাদ্রাসা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে বছরজুড়েই ‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ জেলার ১৪টি উপজেলার প্রতিটি থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা একটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়। পরে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে ‘ডিসি’জ এওয়ার্ড ফর ক্লিনলিনেস’ এর জন্য নির্বাচিত করা হয়।
জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আরও উৎসাহ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি জেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হলে পরিচ্ছন্নতা আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।
শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে পরিচ্ছন্নতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচ্ছন্নতার আদর্শ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়, পরিচ্ছন্নতাকে নিয়মিত জীবনাচরণের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই ‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও চলমান থাকবে।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসনের এ স্বীকৃতিকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।








