ঢাকা | অক্টোবর ১, ২০২৬ - ১০:১৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

তদন্তে গিয়ে দামকুড়া থানা পুলিশ পেলেন আসামীদের কৃত অপরাধ’র লিখিত স্বীকারোক্তি

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, October 1, 2026 - 2:29 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 12 বার

স্টাফ রিপোর্টার:এডিএম আদালতের রায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও আরএমপি দামকুড়া থানার জারি করা নোটিশ তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক জমি দখল,মালিককে ফসল না দেয়া, প্রাণনাশের হুমকি ও হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত সম্পন্ন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। আরএমপি পুলিশ কমিশনারের বিশেষ নির্দেশে পরিচালিত এ তদন্তে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মামলার চার জন আসামি নিজেদের অপরাধ ও সম্পৃক্ততা স্বীকার করে লিখিত জবানবন্দি ও স্বাক্ষর দিয়েছেন।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর, ২০২৬) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানাধীন জাংঘালপাড়া ও সোলাইকান্দি এলাকায় এ সরেজমিনে তদন্ত চালান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ও দামকুড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাফর ইকবাল।
​সকল নথিপত্র ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর ও গোপালপুর মৌজার নালিশি ২০৫৭, ১৯৩৩, ১৮২২, ২১০৯ ও ২০৬২,১৭৮২ নম্বর দাগের মোট ৪ একর ০৪ শতক জমির সুনির্দিষ্ট মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর মধ্যে বাদী সাংবাদিক জিয়াউল

কবিরের মোট জমি ৭৩.৫০ শতক এবং প্রতিপক্ষের মোট জমি ২৯৩.৪২ শতক। উভয় পক্ষের জমির পরিমাণ, অবস্থান ও সীমানা সরকারিভাবে ও বিজ্ঞ আদালতের আদেশে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। বিজ্ঞ এডিসিএম আদালতের রায় ও জারি করা সরকারি নোটিশ থাকা সত্ত্বেও ১ থেকে ৫ নম্বর আসামি এবং তাদের সহযোগী ৬-১৪ নং আসামীরা জোরপূর্বক বেআইনী ভাবে সরকারি নির্দেশ তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে জিয়াউল কবিরের জমি দখল করে রাখছিল এবং আনুমানিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার ফসলি জমি ভোগদখল করে আসছিল।

​এর আগে গত ১০ মে, ২০২৬ তারিখে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বসলে ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতাকে অমান্য করে আসামিরা বাদী জিয়াউল কবিরের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। ওই সময় তারা বাদীর শার্টের বুক পকেট থেকে ৫,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়, গলা চেপে ধরে এবং ইট-পাথর দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাদী জিয়াউল কবির আরএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিকার, ‘ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা সংযোজন এবং আসামিদের চার্জশিটভুক্ত করার লিখিত আবেদন জানান (যার স্মারক নং- ৫৪১৪, তারিখ: ২৮/০৯/২০২৬)। পুলিশ কমিশনারের স্মারক মুলে নির্দেশে পেয়ে এসআই জাফর ইকবাল সরেজমিন তদন্তে যান।

​তদন্তকালে অভিযুক্ত চার আসামি বাদী কর্তৃক উল্লেখিত অপরাধের ধারা অনুযায়ী নিজেদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা এবং অপরাধ স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তারা তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে লিখিত স্বীকারোক্তি প্রদান করে নিজেদের নাম স্বাক্ষর করেন।
লিখিত জবানবন্দিতে স্বাক্ষরকারী আসামিরা হলেন ১. মামলার ৫ নম্বর আসামি শহিদুল ইসলাম (পিতা: মৃত আব্দুল মান্নান),২. ১২ নম্বর আসামি নোমান আলী (পিতা: মৃত লরিক হোসেন),৩. ১৩ নম্বর আসামি মোমিন (পিতা: মৃত গোলাব) এবং৪. ১৪ নম্বর আসামি শামসুল ইসলাম (পিতা: আলি হাজি, তিনি শরিফুল মুহুরির ভাই হিসেবে পরিচিত)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাফর ইকবাল সাংবাদিক দের জানান, “পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের স্মারক মুলে মামলাটি নিরপেক্ষ ও সরজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। আসামিরা অপরাধ স্বীকার করে যে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন, তা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় ও চার্জশিট দাখিল ও বাদী চাইলে ভূমি অপরাধ’র প্রতিকারের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নতুন মামলা দায়েরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মামলার অন্য জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”