চা বাগানের সবুজের আড়ালে শ্রমিকদের হাহাকার
রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার:
ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় চা শ্রমিকদের কর্মযাত্রা। পাহাড়ি পথ পেরিয়ে বাগানে গিয়ে দিনভর কচি চা-পাতা তোলেন তাঁরা। দূর থেকে সবুজ বাগানের দৃশ্য মনোমুগ্ধকর হলেও এর আড়ালে রয়েছে অভাব, অনিশ্চয়তা ও কঠিন জীবনসংগ্রাম।
দুপুরে কাজের ফাঁকে অনেক শ্রমিকের খাবার হয়ে ওঠে আটার রুটি আর চা-পাতা, মরিচ, পোড়া আলু ও চানাচুর দিয়ে তৈরি ‘পাতিচখা’। সীমিত আয়ের সংসারে এটিই তাঁদের ক্ষুধা মেটানোর অন্যতম উপায়।
কমলগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পরও তাঁদের অনেকের সংসারে অভাব লেগেই থাকে। শ্রমিক কমলা গোয়ালা বলেন, “দিনভর কাজ করে মজুরি পাই ১৭৮ টাকা। এই টাকায় সংসার চালানো কঠিন। বিকল্প কাজ না থাকায় বাধ্য হয়েই কাজ করতে হয়।”
নারী শ্রমিক সুর্মিলা কানু বলেন, “সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করি। বাড়ি ফিরে আবার সংসারের কাজ সামলাতে হয়।”
কমলগঞ্জে সরকারি ব্যবস্থাপনাধীন এনটিসি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন মিলিয়ে ২২টি চা বাগান রয়েছে। চা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও শ্রমিকদের জীবনমান, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে রয়েছে নানা সংকট।
চাম্পারায় চা বাগানের ব্যবস্থাপক রাহেল রানা বলেন, চা শ্রমিকেরা কষ্টে জীবনযাপন করেন। তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
সবুজ চা বাগানের সৌন্দর্যের আড়ালে শ্রমিকদের এই জীবনসংগ্রাম যেন এক নীরব বাস্তবতা। যাঁদের শ্রমে সমৃদ্ধ হচ্ছে চা শিল্প, তাঁদের ন্যায্য মজুরি, উন্নত জীবনযাপন ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।








