বাঘায় শান্তির আশায় মানুষ ছুটছে ব্র্যাক আইন সহায়তা কেন্দ্রে
সাজ্জাদ মাহমুদ সুইট, রাজশাহী:ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ছাতারী সেন্টার ব্র্যাক এলাকা অফিসে স্থাপিত ব্র্যাক আইন সহায়তা কেন্দ্র পদ্মা বিধৌত ভারত সীমান্ত ঘেঁষে গড়ে উঠা বাঘা উপজেলার নির্যাতিত নিপীড়িত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বাল্যবিয়ে সহ সকল প্রকার নির্যাতন প্রতিরোধ এবং সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে ”বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ব্র্যাক বাঘা আইন সহায়তা কেন্দ্রের অফিসার মোঃ মোমিনুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, বাঘায় ব্র্যাক আইন সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে জানুয়ারি ২০২৪ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত মোট ২৫৮ জন কে বিভিন্ন ভাবে আইনি সেবা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩২ টি অভিযোগ নিবন্ধন, ০৯ জনকে এডভাইস এন্ড রেফারেল, ১৭ জনকে আইনি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখিত ২৩২ টি অভিযোগের মধ্যে ১৮২ টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে, নিষ্পত্তির শতকরা হার ৭৮%। যার মধ্যে ১০৭ জন দম্পতি তাদের ঘর সংসারে ফিরে গেছেন এবং ৭৫ জন দম্পতি বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন এবং দেনমোহর ও ভরনপোষণ বাবদ ৬০,৮১,৬২০(ষাট লাখ একাশি হাজার ছয়শত বিশ টাকা বুঝে পেয়েছেন।
তিনি আরও জানান বাঘায় ব্র্যাক আইন সহায়তা কেন্দ্রর কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ইতি পূর্বের সমস্ত অর্জনের রেকর্ড অতিক্রম করে সদ্য বিদায়ী বছর। যোগ করেন বাঘায় পারিবারিক ও নারী শিশু সহিংসতার জন্য বাল্যবিয়ে,পরকিয়া ,মাদকাসক্ত এবং যৌতুক অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পারিবারিক, নারী ও শিশু সহিংসতা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি বাঘা উপজেলার মাঠ পযার্য়ে বহুমাত্রিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।
এ ব্যপারে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ব্র্যাক আইন সহায়তা কেন্দ্রে হতে অভিযোগ দিয়ে সংসার জীবনে ফিরে যাওয়া বলিহার গ্রামের সালমা, হরিনা গ্রামের মনোয়ারা, মহদিপুর গ্রামের তানিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায় বর্তমানে তারা সকলে স্বামী, সন্তান, শশুর শাশুড়ী নিয়ে নির্যাতন মুক্ত শান্তিতে ঘর সংসার করছেন। তারা আরও বলেন সংসারে আগের চেয়ে তাদের গ্রহনযোগ্যতা ও মতামত বৃদ্ধি পেয়েছে।
হেলালপুরের আরেকজন ভুক্তভোগী নাজমার সাথে কথা বলে জানা যায়, সে দেনমোহর ও ভরনপোষণ বাবদ তার স্বামীর নিকট হতে দাবিকৃত নায্য টাকা বুঝে পেয়েছেন। এই টাকার একটি অংশ দিয়ে তিনি সেলাই মেশিন কিনে কাজ করে সন্মানের সাথে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাকি টাকা ডিপোজিট করেছেন।
ব্র্যাক আইন সহায়তা কেন্দ্রের সেবা বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসাঃ নাসরিন আক্তার বলেন, ইদানীং ব্র্যাকের মাধ্যমে অসংখ্য অসহায় মানুষ কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই তাদের ন্যায় সংগত অধিকার ফিরে পাচ্ছে। দিন দিন ব্র্যাকের প্রতি অসহায় মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্র্যাক বাঘা আইন সহায়তা কেন্দ্র ২০২৫ সালের জন্য উপজেলার নির্যাতিত মানুষের “মানসম্মত আইনি সুরক্ষা ” এবং “বাল্যবিয়ে মুক্ত স্বপ্নসারথি বর্ষ” ঘোষণা করেন।
ব্র্যাকের সেলপ কর্মসূচির এই কার্যক্রম সম্পর্কে রাজশাহী জেলা ব্যবস্থাপক মোঃ হারুন -অর-রশীদ বলেন ” ব্র্যাক সুবিধা বঞ্চিত অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। বাঘা উপজেলার চলমান কার্যক্রম আগামী দিনে নির্যাতন মুক্ত উপজেলা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’।
সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির রাজশাহী বিভাগীয় জোনাল ম্যানেজার মোঃ আকছেদ আলী বলেন ” বাল্যবিয়ে মুক্ত সমাজ গঠনের মাধ্যমে নির্যাতন মুক্ত শান্তি ও সম্প্রীতির মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মানে ব্র্যাকের এই কার্যক্রমকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সকল শ্রেনী পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বাঘা উপজেলার চলমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।
বাঘা উপজেলায় সেলপ কর্মসূচির এই সাফল্যময় কর্মকান্ড বাস্তবায়নে সার্বক্ষনিক হাতে কলমে সহযোগিতা, অনুপ্রেরনা ও দিক নির্দেশনা প্রদান করে কর্মকান্ড কে বাস্তবতায় রুপ দিতে সহায়তা করেন ডেপুটি ম্যানেজার মোঃ সামাউল ইসলাম।
ব্র্যাক বাঘা উপজেলার সেলপ কর্মসূচির এই অগ্রযাত্রায় ব্র্যাকের পক্ষ থেকে বাঘা উপজেল প্রশাসন, সকল জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী, শিক্ষক, স্বপসারথি, পল্লী সমাজ, গ্রাম প্রধান, ও সুশীল সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্র্যাক আইন সহায়তা কেন্দ্রে হতে সরকারি ছুটি ব্যতীত প্রতি রবিবার সকাল ৮-৩০ মিনিট হতে বিকেল ৫-৩০ মিনিট পযন্ত যেকোনো বিষয় আইনি পরামর্শ এবং দেনমোহর ও ভরনপোষণ, সন্তানের ভরনপোষণ, পিতামাতার ভরনপোষণ, সন্তান উদ্ধার, জমিজামা ও অর্থ সংক্রান্ত ( প্রকৃত ডকুমেন্টস থাকা সাপেক্ষে) অভিযোগ গ্রহন করা হয়। তাছাড়া থানায় এফআইআর তথ্য দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ বিষয় মামলা পরিচালনা সহায়তা করা হয়। প্রয়োজনে অফিস নম্বর (০১৭০০৭৯৬৫২৫) যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।








