ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ১২:১০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা: শত শত ঘরবাড়ি ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতি

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, September 7, 2025 - 7:51 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 46 বার

আরিফুল ইসলাম মহিন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি পৌরসভার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে পানছড়ি ও পার্শ্ববর্তী উজান এলাকায় টানা ভারী বর্ষণের পর চেঙ্গি নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে শহরের নিচের বাজার, মেহেদীবাগ, গঞ্জপাড়াসহ আশপাশের শত শত ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কয়েকশ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং আসবাবপত্রসহ গৃহস্থালির জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নিচের বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, “সকালে দোকানে এসে দেখি নদীর পানি দোকানের কাছে চলে এসেছে। মালপত্র গুছানোর আগেই দোকানে পানি ঢুকে যায়।” মেহেদীবাগের সোহেল রানা জানান, “হঠাৎ পানি ওঠায় আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুরো মেহেদীবাগ এলাকা পানিতে ডুবে আছে।”

এদিকে আকস্মিক বর্ষণে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছেন পানছড়ির কালানাল এলাকার মৎস্যচাষি আনোয়ার হোসেন। তিনি প্রায় ৮ একর জমির ওপর ১১টি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। এর মধ্যে ৬টি পুকুরে প্রায় ১০ টন বিভিন্ন প্রজাতির কার্পজাতীয় মাছ এবং ৪টি পুকুরে ৩৫ হাজার পাঙ্গাস ও ১ লাখ মনোসেক্স তেলাপিয়া মজুদ ছিল, যেগুলো এ মাসের শেষের দিকে বাজারজাত করার কথা ছিল।

কিন্তু শনিবার রাতের ভারী বর্ষণে তার ১১টি পুকুরের মধ্যে ১০টির বাঁধ ভেঙে সব মাছ ভেসে যায়। এতে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। এক কথায় তিনি নিঃস্ব হয়ে দিশেহারা অবস্থায় পড়েছেন।

শুধু আনোয়ার হোসেন নন, এ বন্যায় আরও অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, যার সঠিক হিসাব এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, দুর্গতদের সহায়তা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।