ইউএনও’র নেতৃত্বে উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ভালুকা উপজেলা প্রশাসন।।
আরিফ রববানী, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ এখন সারা জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার। একদিকে শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার কাজ, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রচেষ্টা সবখানেই ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের দৃষ্টিনন্দন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন চোখে পড়ার মতো।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে থাকা অসংখ্য চা ও খাবারের দোকান উচ্ছেদ করে ভালুকা উপজেলা প্রশাসন। এতে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কর্মহীন হয়ে পড়লেও প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়ায়। ইউএনও হাসান মাহমুদের পরিকল্পনায় তাদের পুনর্বাসনের জন্য তৈরি হয় স্টিলের কাঠামোর আধুনিক ও নান্দনিক টি-স্টল, যা পরে কর্মহীন হ’য়ে পড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
ইউএনও বলেন, আমরা শুধু উচ্ছেদ করিনি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করেছি। সবাই যেন নিয়ম মেনে, পথচারীদের অসুবিধা না করে ব্যবসা চালাতে পারেন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি স্টল বিতরণের পাশাপাশি একটি নতুন ফলের বাজারও স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বৃহত্তর হকার্স মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনাও চলছে।
পুনর্বাসিত এক চায়ের দোকানদার বলেন, উচ্ছেদের পর আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। আজ এই দোকান পেয়ে আবার বাঁচার সুযোগ পেলাম। নতুন দোকান বরাদ্দে ইউএনও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শুধু পূর্বে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরাই দোকান পাবেন। বরাদ্দপ্রাপ্তদের ডাটাবেজ আগেই তৈরি করা হয়েছে। তবে দোকান পেতে হলে প্রতিটি ব্যবসায়ীকে দুইটি ফুলের টব, একটি ডাস্টবিন কিনে আনতে হবে এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখার অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। ইউএনওর ভাষায়, মাথার উপর ছেঁড়া পলিথিন বা কাপড়ে ঢাকা দোকান আর চলবে না। এমন পরিবেশে কেউ চা খেতে চায় না। তার লক্ষ্য শুধু শহরের সৌন্দর্য নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ পরিচ্ছন্নভাবে সময় কাটাতে পারে।
ভালুকা শিল্পাঞ্চলের সিপি বাংলাদেশ লিমিটেডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় ক্ষোভের প্রেক্ষিতে ইউএনও হাসান মাহমুদ কোম্পানির প্রেসিডেন্ট সুচাত সানতিপাদার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি ও পরিবেশদূষণের বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
প্রতিক্রিয়ায় সুচাত সানতিপাদা প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সকল শেডে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে, যাতে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপন্ন হয় এবং দূষণ কমে যায়। বিনোদনহীন ভালুকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে উপজেলা প্রশাসন এবার হাতে নিয়েছে একটি বড় প্রকল্প—ভালুকা বিনোদনকেন্দ্র ও কমপ্লেক্স। এতে থাকবে মিনি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, উপজেলা লাইব্রেরি, ইনডোর ব্যাডমিন্টন স্টেডিয়াম, ফ্লোটিং গোলঘর ও প্রশস্ত ওয়াকওয়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, এ উদ্যোগ ভালুকার উন্নয়নচিত্রে নতুন অধ্যায় যোগ করবে। সপ্তাহের ছুটির দিনে ইউএনও হাসান মাহমুদ নিজে মাঠে নেমে পরিষ্কার করেন ভালুকা সরকারি কলেজ গেটের পাশে জমে থাকা ময়লার স্তুপ। তার সঙ্গে স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। এলাকাবাসীর ভাষায়, এমন ইউএনও আমরা কখনও দেখিনি। তিনি শুধু নির্দেশই দেন না, নিজেই কাজে নামেন। এটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়। ইউএনও অভিযোগ করেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উন্নয়ন কাজে বাধা দিচ্ছে।
তিনি লেখেন, “আমার স্বপ্ন, ভালুকাকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত আধুনিক জনপদে রূপ দেওয়া। কিন্তু সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আমাদেরই কিছু মানুষ। বাসস্ট্যান্ড, বাজার ও রাস্তার শৃঙ্খলা ফেরাতে তার অবস্থান স্পষ্ট-আর কাউকে নমনীয়ভাবে বোঝানো হবে না। আইন প্রয়োগ করা হবে। কেউ কর্মহীন হচ্ছেন না, সুতরাং আপোষ নয়। পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও ভালুকা এখন নতুন মাইলফলকে।
ইউএনও ও পৌর প্রশাসক হিসেবে হাসান মাহমুদ শহরের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক ডাস্টবিন স্থাপন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। তার আহ্বান, আপনার বাড়ির ময়লা নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এই উদ্যোগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্ধারিত বর্জ্য ফেলার স্থান তৈরি হয়েছে, যা শহরকে দূষণমুক্ত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উচ্ছেদ থেকে পুনর্বাসন, পরিচ্ছন্নতা থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবক্ষেত্রেই ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নেতৃত্বে ভালুকা আজ একটি রোল মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে উঠছে। তার কর্মতৎপরতা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং এক মানবিক ও দূরদর্শী প্রশাসনের উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভালুকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা, এই গতি, এই উদ্যোগ যেন স্থায়ী হয়, আর ভালুকা হয়ে উঠুক পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও প্রাণবন্ত এক জনপদ।








