ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ২:৪২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে অশ্রু সিক্ত নয়নে বিদায় জানালো ভালুকাবাসী

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, December 1, 2025 - 12:25 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 32 বার

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ:আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বুধবার (২৬নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারা দেশের ১৬৬ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বদলি করা হয়। সেই তালিকায় রয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এর নামও।

গত ২০২৪ সালের ১৭ডিসেম্বর যোগদান করে প্রায় ১১
মাস দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে গেছেন তিনি। তাই তার বদলির খবরে অনেকে হতাশ হয়েছেন আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন এ উপজেলার অনেক মানুষ।

রবিবার (৩০নভেম্বর) ভালুকা উপজেলায় শেষ কর্মদিবস ছিল ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের। সকালে অফিসে আসা মাত্রই উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাকে দেখতে ভিড় জমান স্থানীয়রা। বিদায় বেলায় ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এর সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। তাদের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী ইউএনওকে জড়িয়ে ধরে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘স্যার আপনি এত তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছেন। আপনার সহযোগিতা পেয়ে এখন তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারছি। আপনি গেলে আমাদের মতো অসহায়দের কে দেখবে’।

ভালুকা উপজেলার একাধিক বাসিন্দা এই প্রতিবেদককে বলেন, অসহায়-দুস্থরা তাদের প্রয়োজনে ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এর কাছে গিয়ে কখনো খালি হাতে ফেরেনি। সকলের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বলভাবে কথা বলতেন তিনি। সরকারি-বেসরকারি যেকোনো দপ্তরে কেউ হয়রানি হলে তা তাৎক্ষণিক সমাধান করতেন। অনেক অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছেন। তাই তার কাছে গিয়ে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেত সবাই। সকলের সঙ্গে এত সুন্দরভাবে মিশে থেকেছেন তিনি। উপজেলার সকল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করার পাশাপাশি অনেকের কর্মসংস্থান করে দিয়েছেন। তার মতো সৃজনশীল, চৌকস ও জনবান্ধব ইউএনওকে হারানো মেনে নেওয়া আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সব জায়গায় এখন মূল আলোচনা ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ আর কিছুদিন এ উপজেলায় থাকলে ভালুকার আরও অনেক উন্নতি হতো।

ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভালুকাকে সৌন্দর্যপুর্ণ,পরিচ্ছন্ন উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলতে
ডাস্টবিন স্থাপন, ব্যাটারি চালিত ভ্যানগাড়ি সরবরাহ, ময়লা পরিষ্কারের সরঞ্জাম (ঝাড়ু, বেলচা, বালতি) প্রদান, উপজেলা চত্বরের আলোকসজ্জা, ট্রাফিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ এবং তাদের জন্য পোশাক, বাঁশি, লাঠি ইত্যাদি সরবরাহ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করণের পাশাপাশি উচ্ছেদকৃত দোকানীদের পুনর্বাসন করে উপজেলাব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। তার মেধাবী পরিকল্পনায় ভালুকা উপজেলাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করার লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই ২০২৫ ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের পাশ থেকে অবৈধ চা স্টল উচ্ছেদের পর উচ্ছেদ হওয়া দোকানি ও
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুণর্বাসন করতে ২৮টি
লোহার তৈরি বাহারি টি-স্টল নতুন দোকান তৈরী করে উচ্ছেদকৃত দোকান মালিকদের হস্তান্তর করেন। মেঘমালা’, ‘তিথিডোর’, ‘চারুদ্বীপ’, ‘উড়োচিঠি’, ‘ছায়াবীথি’নামে এসব দোকানের নামকরণ করা হয়েছে। মহাসড়কের যানযট নিরসনে রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জনচলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে তিনি ভালুকাবাসীর কাছে প্রশংসার দাবীদার হয়ে উঠেছেন।

শিক্ষার মানোন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে যেতেন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। নানান গল্পের ছলে শ্রেণিকক্ষে গিয়ে নিজেই পাঠদান করাতেন প্রাথমিক পর্যায়ের কোমলমতি শিশুদের। অনুপ্রেরণা যোগাতেন মানুষ হয়ে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করার। যার স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কৃতও হয়েছেন তিনি। ভালুকা উপজেলায় কাজ করতে গিয়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ক্রীড়া, পর্যটনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে ভালুকাকে আধুনিক ও মডেল উপজেলায় রূপান্তর করেছেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ । আন্তরিকতা ও সেবার মনোভাব ও তার সৃজনশীল পরিকল্পনায় উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো পুরো ময়মনসিংহ জেলাতেই বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, নতুন কিছু সৃষ্টি করতে সব সময় ভালো লাগে। তাই সৃষ্টিসুখের উল্লাসে এই উপজেলাকে ব্র্যান্ডিং করতে যা যা করা প্রয়োজন প্রতিনিয়ত তা করার চেষ্টা করেছি। সকলে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করেছেন বলেই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। ভালুকাকে মডেল উপজেলা হিসেবে বিনির্মাণ ও পরিচিত করতে গিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে একটা গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সেই সম্পর্কের জায়গা থেকেই বিদায় বেলায় তারা কেঁদেছেন।