ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৪:২৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

যাদের কারণে রাতে ঘুমাতে পারিনি—আজ তারাই বিএনপির মঞ্চের প্রথম সারিতে: ক্ষোভ তৃণমূল নেতাকর্মীদের

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, December 7, 2025 - 11:33 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 58 বার

রংপুর ব্যুরো: রংপুরের পীরগঞ্জে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল এবং ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর–৬ (পীরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান–সদস্যদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলার বিনোদনকেন্দ্র ‘আনন্দ নগর’-এ অনুষ্ঠিত এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে। কারণ—এই দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময়ের মূল আয়োজক ছিলেন উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা, যাদের বেশিরভাগই নিষিদ্ধ কার্যক্রম আওয়ামী লীগপন্থী।
৫ আগস্টের ঘটনার পর একই মঞ্চে এমন ‘অপ্রত্যাশিত সহাবস্থান’—

এটি স্থানীয়দের কাছে বিস্ময় ও জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনের বিরোধিতাকারী, হত্যা চেষ্টা মামলার অভিযুক্ত এবং ডেভিল তালিকাভুক্ত কয়েকজনের উপস্থিতি তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর–৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন—“রোগ-শোক রাজনীতির বিষয় নয়। বেগম খালেদা জিয়া দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তার সুস্থতা পুরো জাতির কামনা।”
তিনি আরও আশ্বাস দেন—

“বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যা সমাধানসহ সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ৫ আগস্টের পর আপনারা অনেকেই সমস্যায় পড়েছিলেন —ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন, আপনাদের বিষয়গুলোও গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় কয়েকজন আওয়ামী লীগপন্থী চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে বলেন—“মানবিকতার জায়গা থেকেই আমরা এখানে এসেছি। বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনা সবার দায়িত্ব।”তারা আরও জানান—৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বিভ্রান্তি ও চাপের মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করারও ইঙ্গিত দেন কয়েকজন আওয়ামী পন্থী ইউপি চেয়ারম্যান।

দোয়া মাহফিলে ১৫ ইউনিয়নের অন্তত ১০ জন ইউপি চেয়ারম্যান এবং সব ইউনিয়নের সদস্য–সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:নিষিদ্ধ কার্যক্রম পীরগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতি ও ১৫ নং কাবিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি, ২ নং ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম, ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মন্জুর হোসেন,

১ নং চৈত্রকোল ইউনিয়ন আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান শাহ, ১০ নং শানেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মেজবাহুর রহমান, ১১ নং পাঁচগাছি ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া, ৩ নং বড়দরগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেত্রী মাফিয়া আক্তার শিলা, ৫ নং মদনখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মঞ্জু, ৭ নং বড় আলমপুর ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা হাফিজুর রহমান সেলিম, ৮ নং রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান চৌধুরী দুলাল, ১২ নং মিঠিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরহাদ মণ্ডল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সদস্যাবৃন্দ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা বলেন—“আমরা যাদের কারণে আওয়ামী লীগের সময়ে রাতে ঘুমাতে পারিনি, আজ তারাই বিএনপির অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রথম সারিতে বসে বিএনপির ্ প্রশংসা করছে! এ দৃশ্য ভবিষ্যতে দলের জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে। কাউকে কিছু বললেও বিপদ, না বললেও বিপদ—আমরা সত্যিই বিব্রত।” অনুষ্ঠানের শেষে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।