ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৩:৫৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

প্রতিমন্ত্রী হলেন নান্দাইলের ইয়াসের খান চৌধুরী, উপজেলাবাসীর মাঝে আনন্দের বন্যা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, February 17, 2026 - 4:40 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 51 বার

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ:দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর বাবা আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর স্মৃতিবিজড়িত আসনে ধানের শীষের রাজকীয় বিজয় নিশান উড়িয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পরপরই বড় চমক দেখালেন ছেলে

ইয়াসের খান চৌধুরী। এই আসনে গত ১৯৯১ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলেন তার বাবা আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী।

প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই বাবার আসনে বাজিমাত করেছেন তিনি। তাঁর মেধা, যোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতিস্বরূপ নবগঠিত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এই তরুণ নেতা।

ময়মনসিংহের নান্দাইল (১৫৪, ময়মনসিংহ-৯) আসনের এই সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের এমন সাফল্যে পুরো এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার। সাধারণ ভোটার থেকে দলীয় নেতাকর্মী—সবাই উচ্ছ্বসিত।

ইয়াসের খান চৌধুরী কেবল রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবেও পরিচিত। দীর্ঘ সময় তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান BBC-এর টেলিভিশন নেটওয়ার্কের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। বিদেশে সফল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশ ও মাটির টানে এবং প্রয়াত বাবার স্বপ্ন পূরণে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

রাজনৈতিক দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আস্থা ও সমর্থন অর্জন করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। এরই প্রতিফলন ঘটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর বিজয়ের মাধ্যমে।

তথ্যপ্রযুক্তি জগত থেকে সরাসরি রাজনীতিতে এসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়াকে নান্দাইলবাসী ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁদের আশা, আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দেশের তথ্য ও গণমাধ্যম খাতে নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি “স্মার্ট নান্দাইল” গড়ার স্বপ্নও বাস্তব রূপ পাবে।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান লিটন বলেন, আমরা একজন যোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞকে আমাদের প্রতিনিধি হিসেবে পেয়ে গর্বিত। তিনি প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় নান্দাইলের উন্নয়ন আরও আধুনিক ও স্মার্ট হবে। এটি নান্দাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

ময়মনসিংহ -৯ (নান্দাইল) বিএনপির ধানের শীষের আসনটি বিশ বছর পর পুন:উদ্ধার করলেন ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে অংশ গ্রহন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। উক্ত আসন থেকে জয়লাভের পর ইয়াসের খান চৌধুরী প্রথমেই দলীয় নেতাকর্মী সহ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ইয়াসের খান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত বিডিপির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ার হোসেন চানকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন।

সুত্র জানিয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, স্বাধীনতার সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর একান্ত সচিব ছিলেন ইয়াসের খানের বাবা সাবেক এমপি আনোয়রুল। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্যও ছিলেন তিনি।

তার ছেলে ইয়াসের খান চৌধুরী একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী। দীর্ঘদিন ধরে বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক লন্ডনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। একপর্যায়ে দেশে ফিরে এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তার বাবা ছাড়াও চাচা খুররম খান চৌধুরী ছিলেন চারবারের সংসদ সদস্য।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকের মধ্যে নিজেকে দলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলেন ইয়াসের খান। মনোনয়ন পেয়েই ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোটের মাঠে ভোটারদের মধ্যে প্রচারণা শুরু করেন তিনি।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিল আমি যেন উন্নত ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের জন্য কিছু করতে পারি। কাছ থেকে বাবার মানবিকতার রাজনীতি দেখেছি। দেখেছি সাধারণ মানুষের জন্য তিনি কিভাবে নিজেকে বিলিয়ে দিতেন। বাবার রেখে যাওয়া এই কর্মকাণ্ডকে এখন আমি বাস্তবায়ন করতে চাই।