ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

“যে ভালোবাসা শেষমেশ নীরব চিৎকার হয়ে গেল”

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, March 1, 2026 - 10:31 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 14 বার

বিনোদন ডেস্কঃ গতকাল ছিল শনিবার। পৃথিবী বোধহয় নিজের মতোই চলছিল — মানুষ চা খাচ্ছিল, রাস্তায় গাড়ি চলছিল, কেউ হয়তো সিনেমা দেখছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই একটা জীবন থেমে গেল। একেবারে থেমে গেল। অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা নিজেকে এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে নিলেন — চিরদিনের জন্য।

জাহের আলভী নিজেই ফেসবুকে লিখলেন, তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। খুব অল্প কটা শব্দ। কিন্তু ওই শব্দগুলোর ভেতরে যে অন্ধকার চাপা পড়ে আছে, সেটা কি আদৌ কেউ কোনোদিন বুঝতে পারবে? সন্দেহ হয়।

যে চিঠির প্রাপক আর কোনোদিন পড়বেন না-

ঘটনার পর অভিনেত্রী তমা মির্জা ফেসবুকে একটা খোলাচিঠি লিখলেন। ইকরাকে উদ্দেশ্য করে। চিঠিটা পড়লে বোঝা যায়, প্রতিটা লাইনে একটা চাপা যন্ত্রণা কাজ করছে। এক নারীর অব্যক্ত কান্না যেন ছড়িয়ে আছে পুরো লেখাজুড়ে। তমা আসলে একটা প্রশ্নই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তুলেছেন — তারকা খ্যাতির ঝকমকে আলোর পেছনে ইকরার জীবনে আসলে কী ছিল? ভালোবাসা? নাকি টানা অবহেলা?

শূন্য পকেটের দিনে যে মেয়েটা পাশে দাঁড়িয়েছিল-

তমা একটা কথা লিখেছেন, যেটা পড়ে থমকে যেতে হয়। হয়তো এটা ইকরার জীবনের সাথেও মেলে —

“একটা মেয়ে কাউকে ভালোবাসলে সেই ভালোবাসার মানুষটির শূন্য পকেট হলেও তাকে ভালোবাসে। তার পাশে থাকে, তার সাহস জোগায়, জীবনে অনেক দূর এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়, পুরো পৃথিবীর সঙ্গে যুদ্ধ করে তবুও ভালোবাসার মানুষটার হাত ছাড়ে না।”

ভাবুন একবার। সেই মেয়েটার কথা ভাবুন — যে হয়তো নিজে না খেয়ে থেকেছে কিন্তু মানুষটাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে। নিজের চোখ ভিজে উঠলেও অন্যের সামনে হেসেছে। সারা দুনিয়া যখন পিঠ দেখিয়েছে, সে তখনও দাঁড়িয়ে ছিল একা — শুধু ভালোবাসাটুকুকে আঁকড়ে ধরে।

সফলতা এলো, আর সবটা উলটে গেল
তারপর কী হলো? পকেট ভরলো। মুখে ক্যামেরার আলো পড়লো। মানুষ চিনতে শুরু করলো। আর ঠিক তখনই…

তমার ভাষায় বলি —

“ভালোবাসার সেই মানুষটা যখনই জীবনে সফলতা পায়, পূর্ণতা পায়, ভালোবাসার মানুষ প্রতিষ্ঠিত হয়ে সবার প্রথম ওই মেয়েটিকেই ঠকায়, প্রতারণা করে, অবহেলা করে, কষ্ট দেয়, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, প্রতিনিয়ত মানসিক যন্ত্রণা দেয়।”

এটা পড়ে একটু ভাবলেই গা শিরশির করে। যে হাত একসময় সব ধরে রেখেছিল, সেই হাতটাকেই ছুঁড়ে ফেলা হলো। যে চোখে একদিন পুরো পৃথিবী খুঁজে পেত, সেই চোখের দিকে ফিরেও তাকাবার ফুরসত রইলো না। মেয়েটা যে একসময় শক্তি ছিল, সাহস ছিল — সে ধীরে ধীরে “অপ্রয়োজনীয়” হয়ে গেল। এই শব্দটা খেয়াল করুন — অপ্রয়োজনীয়। একটা মানুষকে এর চেয়ে নিষ্ঠুরভাবে আর কীভাবে মারা যায়?

বেঁচে থাকাটাই যখন সবচেয়ে ভারী বোঝা
তমা এরপর যেটা লিখেছেন, সেটা পড়তে গিয়ে বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে —

“একটা মেয়ে সব মেনে নিতে পারে, সহ্য করতে পারে; কিন্তু তার ভালোবাসার মানুষের এই বদলে যাওয়া চেহারা মানতে পারে না। তখন জীবনটা অর্থহীন হয়ে যায়, নিজের কাছে জীবনের কাছে সে হেরে যায়। সবকিছু থেকে নিজেকে মুক্ত করে ওই মানুষটাকে মুক্তি দিয়ে সবার থেকে দূরে চলে যায়।”

“মুক্তি” — শব্দটা এখানে কেমন বিষাদে ডোবানো, খেয়াল করেছেন? মেয়েটা ভাবছে সে নিজেই সমস্যা। সে নিজেই বোঝা। তার সরে যাওয়াটাই বুঝি ভালোবাসার একমাত্র অবশিষ্ট উপহার। যে মানুষটা তাকে এতটা কষ্ট দিলো, তাকেও সে “মুক্তি” দিতে চাইছে। এর চাইতে নিঃস্ব ভালোবাসা আর কিছু আছে কি?

চলে গেলেই কি সত্যিই কিছু বদলায়?
তমা শেষে একটা প্রশ্ন রেখে গেছেন। প্রশ্নটা সোজা, কিন্তু উত্তরটা ভয়ানক —

“এই চলে যাওয়াতে ওই মানুষটার জীবন থেমে থাকে না, কোনো উপলব্ধি হয় কি না, তা-ও আমার জানা নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, মেয়েটা বেঁচে থেকে যে যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছিল হয়তো তার থেকে একটু কম যন্ত্রণার জায়গা সে খুঁজে নিয়েছে।”

“একটু কম যন্ত্রণার জায়গা।” এই কথাটা আবার পড়ুন। আস্তে আস্তে। এটা পড়ে যদি চোখটা একটুও না ভেজে, তাহলে বলতে বাধ্য হচ্ছি — আমরা বোধহয় কোথাও গিয়ে অসাড় হয়ে পড়েছি।

ইকরা, তুমি চলে গেলে
তুমি চলে গেলে। তোমার এই চুপচাপ চলে যাওয়া কিন্তু হাজারটা মেয়ের গলা ফাটানো চিৎকারকে আজ একটা আওয়াজ দিয়ে গেল — সেটা তুমি জানো কি না জানি না। হয়তো তুমি ভেবেছিলে তোমার যাওয়াতে কিছু একটা নড়বে। কিন্তু সত্যি কথা হলো, পৃথিবী তার মতোই ঘুরতে থাকবে। শুধু তোমার জায়গাটুকু — সেটা ফাঁকাই থেকে যাবে। সেটা কেউ ভরতে পারবে না।

বেঁচে থাকাটাই কিন্তু সবচেয়ে বড় জবাব হতে পারত, ইকরা। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, মাথাটা সোজা রেখে, সেই মানুষটাকে দেখিয়ে দেওয়া যেত — তুমি ছাড়াও দুনিয়াটা সুন্দর, বরং হয়তো আরও বেশি সুন্দর।

কিন্তু তুমি সেই পথে হাঁটোনি। চুপ করে চলে গেলে। ঠিক যেমন চুপ করেই সহ্য করে গেছিলে এতদিন।

⚠️ জীবন একটাই। কোনো সম্পর্ক, কোনো মানুষ — জীবনের চেয়ে বড় হতে পারে না। মানসিক কষ্টে থাকলে দয়া করে কারো সাথে কথা বলুন। চুপ করে থাকবেন না। সাহায্য নিন। আপনার বেঁচে থাকাটা দরকার — আপনার জন্যই।