ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৬:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ইউপি হলরুমে রাতভর ‘সালিস’, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি—পুলিশের উদ্ধার

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, March 2, 2026 - 1:33 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 12 বার
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ধর্ষণচেষ্টার একটি ঘটনায় রাতভর সালিস বৈঠক করার অভিযোগ উঠেছে। সালিসে হোসেন আলী (৩৫) নামের এক যুবককে আটক রেখে দফায় দফায় মারধর এবং ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে দ্বিতীয় দফা সালিস চলাকালে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুম থেকে পুলিশ হোসেন আলীকে উদ্ধার করে। পরে তাকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত হোসেন আলী তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে হোসেন আলী প্রতিবেশী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের জিম্মায় দেন। পরে গ্রামপুলিশের সহায়তায় তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে পরিষদের হলরুমে রাতভর সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অভিযুক্তকে মারধর করে জরিমানার নামে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুলের নির্দেশে অভিযুক্তকে পরিষদে এনে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। সোমবার চেয়ারম্যান নিজেও দ্বিতীয় দফা সালিসের চেষ্টা করেন। তবে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় আপোষ নিষ্পত্তি ভেস্তে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুল বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার বাবুল বিষয়টি নিয়ে সালিস করেছেন, তিনি এতে জড়িত নন। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সালিস বৈঠক করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা জানান, মোবাইলফোনে খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হবে।