কুমিল্লায় গড়ীররাতে মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, বুড়িচং থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মো.শাহাদত হোছাইন, কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা বুড়িচং থানাধীন ময়নামতি ইউনিয়নের কালাকচুয়া নাজিরা বাজারস্থ মেসার্স মদিনা পেট্রোল পাম্বের সামনে চট্টগ্রাম-ঢাকাগামী মহাসড়কের ঢাকা মুখি লেইনে গড়ীররাতে মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে দুই ডাকাতকে আটক করেছে। এই ঘটনায় বুড়িচং থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আসামীরা হলো- ১। মোঃ লাল মিয়া (৪৩), পিতা-মৃত জয়নাল ফরাজী, মাতা-রেনু বেগম, সাং-জাঙ্গাইল্যা (হাজীরহাট ফরাজী বাড়ী), থানা-মেহেন্দীগঞ্জ, জেলা-বরিশাল, বর্তমান সাং-মেরাদিয়া (ইউসুফ মাতবরের বাড়ীর সামনের বাড়ী), থানা-খিলগাঁও, জেলা-ঢাকা, ২। রুবেল আহমেদ সেলিম (৩৬), পিতা-সফিকুল ইসলাম, মাতা-নাজমা বেগম, সাং-নতুন জুরাইন, ০৬নং ওয়ার্ড (আলমতবাগ, প্রফেসর বাড়ী), থানা-শ্যামপুর, জেলা-ঢাকা, ৩। মোঃ শুকুর আলী বয়াতী (৫৩), পিতা-বরকত আলী বয়াতী, মাতা-ছিদ্দিকা বেগম, সাং-কাউশিয়া,ডাকঘর-কাহালিয়ার হাট, থানা-হিজলা, জেলা-বরিশাল, বর্তমান সাং-পানগাঁও (কাজী বাড়ীর গলিতে ডিমের দোকান আছে), থানা-দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, জেলা-ঢাকা, ৪। আজাদ জোয়ারদার (৪৮), পিতা-ছবেদ আলী জোয়ারদার, মাতা-খাদিজা বেগম, সাং-কোমরাইল, ডাকঘর-আর কোমরাইল, থানা-ডুমুরিয়া, জেলা-খুলনা, বর্তমান সাং-শামসুরঘাট (বিএনপি পার্টি অফিসের পিছনে বাসা), থানা-দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, জেলা-ঢাকা।
শনিবার (২৩ মে) ভোর রাত ৩ টার দিকে কুমিল্লা বুড়িচং থানাধীন ময়নামতি ইউনিয়নের কালাকচুয়া নাজিরা বাজারস্থ মেসার্স মদিনা পেট্রোল পাম্পের সামনে ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান। যার মামলা নং-৩৭।
এজাহার সুত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী মোঃ মহিউদ্দিন (৪৬) একজন মাছের পোনা ব্যবসায়ী। তিনি প্রায় সময় রাতের বেলায় পিকআপ গাড়ী যোগে বিভিন্ন জায়গায় মাছের পোনা সরবরাহ করে। ২৩ মে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নোয়াখালী চেয়ারম্যান ঘাট থেকে পিকআপ গাড়ী যোগে মাছের পোনা খুলনায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় মামলার বাদী। ২৪ মে গভীর রাত ৩ টার সময় বুড়িচং থানাধীন ৬নং ময়নামতি ইউনিয়নের অন্তর্গত কালাকচুয়া নাজিরা বাজারস্থ মেসার্স মদিনা পেট্রোল পাম্পের সামনে চট্টগ্রাম-ঢাকা গামী মহাসড়কের ঢাকা মুখি লেইনে পৌছিলে একটি সাদা কালারের নাম্বার বিহীন প্রাইভেটকার তাদের পিকআপ গাড়ীর সামনে আসিয়া গতিরোধ করে এবং প্রাইভেটকার থেকে ৪ জন ব্যক্তি নামিয়া তাদেরকে ধারালো চাপাতি, সুইচ গিয়ার, চাইনজ কুড়াল ইত্যাদির সম্মুখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়া বাদী ও ১নং সাক্ষীকে যা কিছু আছে সব কিছু দিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। পিকআপ গাড়ীর চালককে গাড়ীর চাবি দেওয়ার জন্য বলে। রাজী না হলে বাদী ও গাড়ির চালককে তাদের সাথে থাকা ছেনির উল্টা পিঠ দ্বারা মারধর করে এবং ৬০ হাজার টাকা ছিনাইয়া নিয়া যায়। আমাদের শোর চিৎকার করলে স্থানীয় জনতা ১ ও ২নং আসামীকে আটক করে। সেই সময় ৩ ও ৪নং আসামী তাদের নাম্বার বিহীন প্রাইভেট গাড়ী যোগে পালিয়ে যায়। ওই সময়ে রাত্রীকালীন ফাঁড়ি এলাকায় টহলরত দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ঘটনাস্থলে এসে আটককৃত ২ আসামীকে পুলিশি হেফাজতে নেয়। আটককৃত ২ জন আসামী থানায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং সঙ্গীয় পলাতক ৩ ও ৪নং আসামীর নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে।
মামলার বাদী মো.মহিউদ্দিন জানান, আসামীরা তাদের টার্গেটকৃত গাড়ীতে সুকৌশলে জিপিএস ট্র্যাকার লাগিয়ে সুবিধামত স্থানে ডাকাতি করিয়া থাকে। পুলিশ ১ ও ২নং আসামীকে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে নিয়ে পরে থানায় নিয়া যায়। তিনি পলাতক আসামীদের দ্রুত আটকের দাবী জানায়।








