ঢাকা | জুলাই ১৩, ২০২৬ - ৩:১২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

নেত্রকোনায় সাংবাদিকের অভিযোগ হেনস্তার এলাকাবাসীর অভিযোগ ভিন্ন

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, July 12, 2026 - 6:17 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 16 বার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক সাংবাদিককে হেনস্তা, মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত বুধবার (৮ জুলাই) নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জাকিরুল ইসলাম নামের এক তরুণ।অভিযোগে তিনি নিজেকে দৈনিক ইনকিলাবের বারহাট্টা উপজেলা প্রতিনিধি লিখেছেন।

লিখিত অভিযোগে জাকিরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি বারহাট্টা উপজেলা এলজিইডির অধীনে নির্মিত কয়েকটি পুকুর ঘাটের কাজ নিয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অপর্যাপ্ত সিমেন্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের বিষয়ে জানতে গত সোমবার উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য উপজেলা পরিষদে যান তিনি।

বিকেলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে তিনি বিষয়টি ভিডিও ধারণ করেন এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরে উপজেলা চত্বরে একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মী শুভ চন্দ্র দাস (সরকার) তাকে ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এরপর আরও কয়েকজন সেখানে এসে তাকে ঘিরে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়টি জানতে বারহাট্টা উপজেলা পরিষদে গেলে বেশ কিছু ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন জানান জাকিরুল ইসলাম নামের ওই তরুণ সাংবাদিক পরিচয়ে উপজেলার বিভিন্ন অফিসে এবং উপজেলা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গিয়ে ভিডিও করেন।নিজের মন মত না হলেই তিনি তার ফেইসবুক আইডি থেকে সে সকল ভিডিও ছড়িয়ে দেন।পরবর্তীতে অনৈতিক সুবিধা হলে সে ভিডিও আবার ডিলেটও করে দেন।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আক্কাস আলী বলেন আমরা বিএনপি যে কোন উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন চাই।গত ২০২৫-২৬ অর্ধবছরে বারহাট্টায় সকল প্রকল্পের কাজ শত ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।তবু জাকিরুল ইসলাম নামের ছেলেটা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গিয়ে  ভিডিও করে।কোন প্রকল্পে অনিয়ম হলে সাংবাদিক নিউজ করতেই পারে।কিন্তুু ভিডিও করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া কেমন সাংবাদিকতা।আমরা এমন সাংবাদিকতার বিচার চাই।

উপজেলা পুকুর ঘাটের টিকাদার সাবেক বিআরডিবির চেয়ারম্যান ওয়ারেজ উদ্দিন বলেন এই জাকির নামের ছেলেটা একদিন আমার সাথে  দেখা করতে আসে।সে এসেই কাজে অনিয়ম হয়েছে বলে আমার উপর ফোর্স করে।কিন্তুু আমি থাকে কাজে কি অনিয়ম হয়েছে সেটা বুঝিয়ে বলতে বলি।তখন সে আমাকে তার সাথে গোপনে দেখা করতে বলে।আমার কাজে ত্রুটি থাকলে আমি একবার না হাজার বার ঠিক করব।কিন্তুু উনি আমাকে গোপনে দেখা করতে বলবেন কেন।সাংবাদিকতা এমন হয়ে গেলে আমরা টিকাদাররা কাজ করব কি করে।

উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী বাতেন জানান ঘটনার দিন এই লোক আমার অফিসে আসেননি।আমার অফিসে সিসি আছে।আর উনি ভিডিও করে যে অনৈতিক সুবিধা চান এটা সঠিক।অনিয়ম হলে নিউজ হবে অনৈতিক সুবিধা কেন দাবী করবেন।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, এই অভিযোগের বিষয়ে আমি খোঁজ নিবো যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।