শাহজালাল (রহ.) দরগাহের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাবেক ডিসি সারওয়ার আলম
মোঃ নাসির, প্রতিনিধি: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ শরীফের দান-অনুদান ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, যিনি দায়িত্ব পালনকালে দরগাহের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও অসংখ্য ভক্ত, আশেকান ও দর্শনার্থী প্রতি বছর শাহজালাল (রহ.) দরগাহে আসেন এবং দান-অনুদান প্রদান করেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব অর্থের ব্যবস্থাপনা, হিসাব সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা ছিল।
সারওয়ার আলমের উদ্যোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মনে করেন, দরগাহে প্রাপ্ত দান-অনুদান একটি ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত এবং এর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আসছে।
সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সচেতন নাগরিকরা দরগাহের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ, স্বাধীন অডিট ব্যবস্থা চালু এবং একটি প্রতিনিধিত্বশীল ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মতে, এতে করে জনসাধারণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দান-অনুদানের অর্থ যথাযথভাবে ধর্মীয় ও মানবকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা সম্ভব হবে।
এদিকে অনেক নাগরিক মনে করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলোর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত ও আইনি কাঠামোর আলোকে বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা যেমন অক্ষুণ্ণ থাকবে, তেমনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও অংশগ্রহণও আরও সুদৃঢ় হবে।








