সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর প্রবাসী ভাই নিহত
সৌদি আরব: সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের দুই সহোদর প্রবাসী ভাই নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন সজীব ও সুজন। তারা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের গণিপুর খলিফার বাড়ি এলাকার কামারহাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের বড় ও মেজো ছেলে। জীবিকার তাগিদে তারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিয়ে ফিরছিলেন সজীব ও সুজন। পথিমধ্যে তাদের বহনকারী গাড়িটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি দ্রুতগামী গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তাদের গাড়িটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় দুই ভাই-ই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে চন্দ্রগঞ্জসহ পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা আর্তনাদ আর আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে পাড়া-প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন তাদের বাড়িতে।
স্থানীয়রা জানান, সজীব ও সুজন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও পরোপকারী স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তাদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে চন্দ্রগঞ্জের কামারহাট বাজারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
“তারা দুই ভাই অত্যন্ত অমায়িক ও কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে গিয়ে আজ লাশ হয়ে ফিরছেন—এই শোক সহ্য করার মতো নয়।”
হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রবাসীরা নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করছেন।
এদিকে, নিহত দুই ভাইয়ের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শোকবিহ্বল পরিবারের সদস্যরা।








