ঢাকা | জুলাই ২৭, ২০২৬ - ৭:২১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

গোদাগাড়ী রাজশাহীর ‘মাদক সম্রাট’ সোহেল রানার অবৈধ উত্থান,এবার রাজনীতির নেতৃত্বের পথে

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, July 27, 2026 - 12:01 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 41 বার

জিয়াউল কবীর, (রাজশাহী): রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্ত এখন স্থানীয়দের কাছে ‘মাদকের করিডোর’। আর এই করিডোরের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নাম উঠে আসছে ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সোহেল রানার।

অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারের টেকনাফের শীর্ষ মাদক কারবারি জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগসাজশ করে উত্তরবঙ্গে ইয়াবার নেটওয়ার্ক চালাচ্ছেন তিনি। ১৫ বছর আগে বাসের হেলপার থাকা সোহেল রানা এখন প্রায় ৭০ বিঘা জমি, ইটভাটা, গরুর খামার, শহরে ৫টি দোকান ও ফ্ল্যাটের মালিক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক, নাশকতা ও দুর্নীতির একাধিক মামলা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, টেকনাফ থেকে আসা ইয়াবা ও হেরোইনের বড় চালান প্রথমে আসে গোদাগাড়ী সীমান্তে। পরে গোদাগাড়ীকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে তা পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই নেটওয়ার্কের সমন্বয় করেন সোহেল রানা নিজেই।

অভিযোগকারীরা বলেন, “চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার দাপট আরও বেড়েছে। পুলিশ ধরলেও রাজনৈতিক ফোনে ছাড়া পেয়ে যান।”

পরিবারের লোকজনও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। গত বছরের মে মাসে তার বাবা মো. মজিবুর রহমানকে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মামা গোলাম রাব্বানী ও শ্যালক সবুজ ১ কেজি করে হেরোইনসহ বিজিবি ও পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

সোহেল রানার ডান হাত হিসেবে কাজ করেন মাটিকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন নয়ন ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বিপ্লব খাটেল। অভিযোগ রয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে নয়ন আবার সক্রিয় হয়েছেন।

পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে নাটোরে হেরোইনসহ, ২০১৩ সালে মারামারি ও ২০১৭ সালে নাশকতার মামলা রয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার সম্পদ দ্রুত বাড়তে থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে মাটিকাটা ইউনিয়নের জামদানি মোড়ে ‘আবির ইটভাটা’, পাশে ৫ বিঘা জমি, গোগ্রাম ইউনিয়নে ৩৯ বিঘা পুকুর ও বড় গরুর খামার, আরও ২০ বিঘা কৃষি জমি। রাজশাহী শহরে নিউ মার্কেটে ৩টি দোকান, থিম ওমর প্লাজায় ২টি দোকান, অভিজাত প্লাজায় ফ্ল্যাট, ৪টি ট্রাক ও ১টি প্রাইভেট কার। এছাড়া রাজশাহী নগরীতে পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ এবং টিসিবির পণ্য ও সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সোহেল রানা গোদাগাড়ী-তানোরের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী, পবা-মোহনপুরের সাবেক এমপি আসাদুজ্জামান আসাদ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল। এই ছত্রছায়ার কারণেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হচ্ছিল।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা আব্দুস সালাম বলেন, “সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানা আওয়ামী লীগের দোসর। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা আছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার নয়, তার নামে-বেনামে থাকা প্রায় ৭০ বিঘা জমির দলিল, ইটভাটার লাইসেন্স, দোকান-ফ্ল্যাটের কাগজ ও আয়কর রিটার্ন যাচাই করে অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। তাদের কথা, একজন বাস হেলপার কীভাবে মাদক সিন্ডিকেটের হোতা ও কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করে।