আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন দিল্লির শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ভাষণ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক সাতক্ষীরার অরিন।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি থেকে দেওয়া ভার্চুয়াল ভাষণকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে সাতক্ষীরার তরুণ আবু ওবাইদা অরিনের বক্তব্যের বিষয়টি জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপিত হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অরিনের বিষয়টি উপস্থাপন করেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী। এসময় সাতক্ষীরা ১ ও ২ আসনের এমপি, পুলিশ কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা, বিএনপির কর্মকর্তা, সাংবাদিকদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, অরিনের বিষয়টি পুলিশের নজরে রয়েছে। তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কে এই অরিন ?
অরিনের পুরো নাম: আবু ওবাইদা অরিন। তিনি সাতক্ষীরা সদর থানার অদূরে মুনজিতপুর এলাকার লিচুতলার বাসিন্দা সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি’র আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত প্রেস ব্যবসায়ি আবু শোয়েব এবেলের বড় ছেলে। এছাড়া, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলীর ভায়রার ছেলে।
অরিন প্রাইমারি লেবেল থেকে কলকাতায় পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তবে, অরিনের পিতা আবু শোয়েব এবেল এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, প্রাইমারি নয়, হাইস্কুল লেবেল থেকে সে (অরিন) ভারতে পড়াশোনা করেছে। এখন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। তিনি বলেন, ছেলে অরিন যে আওয়ামী লীগের এতোদূর এগিয়েছে তা তিনি জানতেন না।
বিএনপি নেতা এডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী এবিষয়ে বলেন, অরিন আমার নিকট আত্মীয় হলেও তার সাথে রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে দিল্লিতে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। উক্ত অনুষ্ঠানে অরিনের উপস্থাপকের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে আসায় সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানান আলোচনা সমালোচনা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় জুলাই আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেন অরিন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন তিনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য ও সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।
অরিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং জুলাই আন্দোলন নিয়ে তার বক্তব্যের বিষয়টি সামনে আসার পর তার দীর্ঘ দিন ভারতে থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
আবু ওবাইদা অরিন তার বক্তব্যে আরও বলেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছে।
এছাড়া তিনি সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন এবং দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও রাজনৈতিক কাঠামোর সমালোচনা করেন। জুলাই আন্দোলনকে ‘টেরোরিস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উক্ত কনফারেন্সের মূল মঞ্চে আবু ওবাইদা অরিন ছাড়াও ভারতের সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের সাথে বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক কুটনীতিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমিনুল হক পলাশ,
সজীব ওয়াজেদ জয়সহ উর্দ্ধতন ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।








