বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত এবং প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরানের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩১ রানে হেরে যায়। এর আগে গত আসরে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল বাংলাদেশ নারী দল। এবার সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি তারা।
টুর্নামেন্ট চলাকালীন অধিনায়ক জ্যোতির নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর এ সিদ্ধান্ত দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, টুর্নামেন্ট চলাকালে অধিনায়ক ও প্রধান কোচকে এভাবে ‘সাইজ করে দেওয়া’ হলে ভালো পারফরম্যান্স আশা করা কঠিন।
তবে কোচের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেন, জ্যোতির অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তে তিনি নিজেও হতাশ ও বিব্রত হয়েছিলেন। তার মতে, এত বড় টুর্নামেন্ট চলাকালে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জ্যোতির বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল।
কোচ সারোয়ার ইমরানের বক্তব্য প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, নারী দলের কয়েকজন খেলোয়াড় এর আগে প্রধান কোচের আচরণ নিয়ে তার কাছে অভিযোগ করেছেন। তবে তখন তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, অধিনায়ককে ‘সাইজ করে দেওয়া’ হয়েছে—প্রধান কোচের এমন বক্তব্য সঠিক নয়। এ বক্তব্যের কারণ জানতে কোচের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরানের সঙ্গে বিসিবির দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে তার চুক্তি নবায়ন এবং নারী দলের নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে সামনে আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দল পরিচালনা, অধিনায়কত্ব ও কোচিং ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বিসিবি এসব বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।